
মোঃ ইয়াহিয়া শাকুর : এক সময়ের জনপ্রিয় মেলাপ্রিয় এই মিষ্টি এখন শুধুই স্মৃতি বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব, আনন্দ আর ঐতিহ্যের অনুপম বহিঃপ্রকাশ। বাংলা নববর্ষে গ্রামবাংলায় বসে বৈশাখী মেলা, আর সেই মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘বৈশাখের বাতাসা’।
পটুয়াখালীর বাউফল অঞ্চলে শতবর্ষের বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য। বৈশাখ এলেই বিভিন্ন হাট-বাজারে ও মেলায় বাতাসা বিক্রি হতো জমজমাটভাবে। বাহারি রঙের ও আকৃতির এই মিষ্টি শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সকল বয়সীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
তবে কালের বিবর্তনে আজ তা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রামে এখন আর তেমন মেলা বসে না, দোকানিরাও বাতাসার পসরা সাজান না আগের মতো।

উপজেলার কালাইয়া বন্দরের প্রবীণ মিষ্টি ব্যবসায়ী বিরাজ ময়রা বলেন, “প্রায় ৫০ বছর ধরে মিষ্টি তৈরি করছি। আগে বৈশাখ মাস এলেই বাতাসার চাহিদা বেড়ে যেত। বিভিন্ন গ্রামে মেলা বসত, প্রচুর বিক্রি হতো। এখন সেই জৌলুশ আর নেই। তবে ঐতিহ্য রক্ষায় এখনও প্রতিবছর কিছু বাতাসা তৈরি করি।”
এই বাতাসা তৈরি হয় চিনি ও মিঠা গলিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে। অনেক সময় আম, কাঁঠাল, কলা বা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে এর স্বাদ আরও বাড়ানো হতো। খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি দেখতে ছিল মনকাড়া।
কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান রাসেল বলেন, “আমরা আমাদের শিকড় থেকে সরে যাচ্ছি। এক সময় বাংলা নববর্ষ ছিল সার্বজনীন আনন্দের উৎসব। গ্রামের মানুষ একসঙ্গে উৎসব করত। বাতাসা, দই, ঘোল, কুলফি, মুড়িসহ নানা দেশীয় খাবারে মুখরিত থাকত চারদিক। এখন এসব ঐতিহ্য প্রায় বিলুপ্তির পথে।”
আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যই হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে বৈশাখের সেই সোনালি শৈশব, হারিয়ে যাচ্ছে বাউফলের ‘বৈশাখের বাতাসা’ নামের এক মিষ্টি স্মৃতি।