জাতীয় সংসদে পাস নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল–২০২৬ পাস: সুরক্ষা ও ন্যায় বিচারে নতুন দিগন্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭ Time View

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে বহুল আলোচিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) ১০ এপ্রিল ২০২৬ (শুক্রবার): বিল–২০২৬। এই আইনকে দেশের বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ-এ কণ্ঠভোটে সর্ব সম্মতিক্রমে বিলটি পাস হয়। এর মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০ কে সময়োপযোগী ও কার্যকর করার পথ সুগম হয়েছে।
বিচার ব্যবস্থায় নতুন গতি ও স্বচ্ছতা
সংশোধিত আইনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বিচার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত,স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা। দীর্ঘসূত্রিতা ও বিলম্বিত বিচার ভুক্ত ভোগীদের যে মানসিক,সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে,তা দূর করার লক্ষ্যে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে সময়সীমা নির্ধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততর হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এ আইন বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত নতুন সংশোধনীতে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা,গোপনীয়তা এবং সম্মান রক্ষায় উন্নত ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আদালত ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সময় যাতে তারা পুনরায় ভয় বা হয়রানির শিকার না হন,সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ নারীদের ও শিশুদের বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে এবং তাদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করবে। ফলে নির্যাতনের ঘটনা গোপন না রেখে আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা বাড়বে। অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা
আইনটি অপরাধীদের জন্য কঠোর ও সুস্পষ্ট শাস্তির কাঠামো নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে সমাজে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে—নারী ও শিশু নির্যাতনের কোনো স্থান নেই। সরকার এ ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও আধুনিক বিচারব্যবস্থা সংশোধিত আইনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।ডিজিটাল প্রমাণ,তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তি নির্ভর তদন্ত পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারব্যবস্থা আরও কার্যকর ভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। এটি সাইবার অপরাধসহ আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক বিশেষজ্ঞদের মতে,এই আইন জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে,বিশেষত লক্ষ্য–৫: জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায়। পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি ও মানদণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে আরও সুদৃঢ় করবে।সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্ব
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় মনে করে,আইনের সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,বিচার বিভাগ,স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান,সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আইনের সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এই আইন বাস্তবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। সমাজে প্রত্যাশিত ইতিবাচক প্রভাব এই সংশোধিত আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে,নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে;নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ শক্তিশালী হবে;বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে;অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হবে;মানবাধিকার সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় হবে;একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস বাংলাদেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু একটি আইন নয়,বরং মানবিকতা,ন্যায়বিচার এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রতি রাষ্ট্রের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা করা হচ্ছে,যেখানে প্রতিটি নারী ও শিশু নিরাপদ,সম্মানিত ও সুরক্ষিত জীবনযাপন করতে পারবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার এনামুল হক রাশেদীঃ বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরের আভিজাত রেস্টুরেন্টে এসইবিডি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ ও উদ্যোক্তা মিটআপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত:

জাতীয় সংসদে পাস নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল–২০২৬ পাস: সুরক্ষা ও ন্যায় বিচারে নতুন দিগন্ত

Update Time : ০৬:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে বহুল আলোচিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) ১০ এপ্রিল ২০২৬ (শুক্রবার): বিল–২০২৬। এই আইনকে দেশের বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ-এ কণ্ঠভোটে সর্ব সম্মতিক্রমে বিলটি পাস হয়। এর মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০ কে সময়োপযোগী ও কার্যকর করার পথ সুগম হয়েছে।
বিচার ব্যবস্থায় নতুন গতি ও স্বচ্ছতা
সংশোধিত আইনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বিচার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত,স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা। দীর্ঘসূত্রিতা ও বিলম্বিত বিচার ভুক্ত ভোগীদের যে মানসিক,সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে,তা দূর করার লক্ষ্যে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে সময়সীমা নির্ধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততর হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এ আইন বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত নতুন সংশোধনীতে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা,গোপনীয়তা এবং সম্মান রক্ষায় উন্নত ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আদালত ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সময় যাতে তারা পুনরায় ভয় বা হয়রানির শিকার না হন,সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ নারীদের ও শিশুদের বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে এবং তাদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করবে। ফলে নির্যাতনের ঘটনা গোপন না রেখে আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা বাড়বে। অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা
আইনটি অপরাধীদের জন্য কঠোর ও সুস্পষ্ট শাস্তির কাঠামো নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে সমাজে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে—নারী ও শিশু নির্যাতনের কোনো স্থান নেই। সরকার এ ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও আধুনিক বিচারব্যবস্থা সংশোধিত আইনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।ডিজিটাল প্রমাণ,তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তি নির্ভর তদন্ত পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারব্যবস্থা আরও কার্যকর ভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। এটি সাইবার অপরাধসহ আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক বিশেষজ্ঞদের মতে,এই আইন জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে,বিশেষত লক্ষ্য–৫: জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায়। পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি ও মানদণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে আরও সুদৃঢ় করবে।সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্ব
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় মনে করে,আইনের সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,বিচার বিভাগ,স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান,সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আইনের সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এই আইন বাস্তবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। সমাজে প্রত্যাশিত ইতিবাচক প্রভাব এই সংশোধিত আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে,নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে;নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ শক্তিশালী হবে;বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে;অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হবে;মানবাধিকার সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় হবে;একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস বাংলাদেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু একটি আইন নয়,বরং মানবিকতা,ন্যায়বিচার এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রতি রাষ্ট্রের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা করা হচ্ছে,যেখানে প্রতিটি নারী ও শিশু নিরাপদ,সম্মানিত ও সুরক্ষিত জীবনযাপন করতে পারবে।