প্রধান শিক্ষকসহ দুই শিক্ষকে অপসারনের দাবীতে পটুয়াখালীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

  • মোঃ সোহাগ
  • Update Time : ০১:৪২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪২ Time View

মোঃ সোহাগ বিশেষ প্রতিনিধি : প্রি টেস্ট পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেয়ার লজ্জায় বাড়িতে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টায় আহত ঘটনায় ও অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে পটুয়াখালীর শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ দুই শিক্ষকের অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় শ্রীরামপুর মৌকরন বাজার হতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে প্রায় আধা কি.মি. সড়ক প্রদক্ষিন করে বিদ্যালয়ের মাঠে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে শত শত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষোভকারীরা শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী হারুন অর রশিদ ও সহকারি শিক্ষক অমলচন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে অবিলম্ভে তাদের অপসারন দাবী করে। অপসারন না করলে বিদ্যালয়ে তালা লাগানোর হুমকি দেয় বিক্ষোভকারিরা।

বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ঘটনারদিন ৪ সেপ্টেম্বর বৃহষ্পতিবার পরীক্ষার হলে প্রধান শিক্ষক স্যার ও সহকারি শিক্ষক অমল চন্দ্র সাহা ছিলেন, শিক্ষার্থী তামান্নার সাথে কি হয়েছে আমি জানিনা। প্রধান শিক্ষক স্কুলের কাজে পটুয়াখালী শিক্ষা অফিসে গেছেন এবং সহকারি শিক্ষক অমল চন্দ্র ছুটিতে আছেন। শুনেছি শিক্ষার্থী তামান্না বরিশালে ট্রিটমেন্টে আছে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি খলিলুর রহমান খবর পেয়ে স্কুলে ছুটে আসেন এবং আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষগনের কাছে সুপারিশ প্রেরন করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, কিসমত মৌকরন নিবাসী দিন মজুর আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী তামান্না আক্তার প্রি-টেস্ট পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় ৪ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক ও সহঃ শিক্ষক অমল চন্দ্র তাকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়। তামান্না লজ্জায় বাড়িগিয়ে রুমের দরজা আটকিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নাহত্যার চেষ্টা করছিল। এ সময় টের পেয়ে স্বজনরা দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে বরিশাল মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাকে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা করানো হচ্ছে বলে স্বজনরা জানান। সে এখন সুস্থ বলেও স্বজনরা জানান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার এনামুল হক রাশেদীঃ বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরের আভিজাত রেস্টুরেন্টে এসইবিডি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ ও উদ্যোক্তা মিটআপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত:

প্রধান শিক্ষকসহ দুই শিক্ষকে অপসারনের দাবীতে পটুয়াখালীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

Update Time : ০১:৪২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোঃ সোহাগ বিশেষ প্রতিনিধি : প্রি টেস্ট পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেয়ার লজ্জায় বাড়িতে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টায় আহত ঘটনায় ও অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে পটুয়াখালীর শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ দুই শিক্ষকের অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় শ্রীরামপুর মৌকরন বাজার হতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে প্রায় আধা কি.মি. সড়ক প্রদক্ষিন করে বিদ্যালয়ের মাঠে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে শত শত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষোভকারীরা শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী হারুন অর রশিদ ও সহকারি শিক্ষক অমলচন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে অবিলম্ভে তাদের অপসারন দাবী করে। অপসারন না করলে বিদ্যালয়ে তালা লাগানোর হুমকি দেয় বিক্ষোভকারিরা।

বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ঘটনারদিন ৪ সেপ্টেম্বর বৃহষ্পতিবার পরীক্ষার হলে প্রধান শিক্ষক স্যার ও সহকারি শিক্ষক অমল চন্দ্র সাহা ছিলেন, শিক্ষার্থী তামান্নার সাথে কি হয়েছে আমি জানিনা। প্রধান শিক্ষক স্কুলের কাজে পটুয়াখালী শিক্ষা অফিসে গেছেন এবং সহকারি শিক্ষক অমল চন্দ্র ছুটিতে আছেন। শুনেছি শিক্ষার্থী তামান্না বরিশালে ট্রিটমেন্টে আছে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি খলিলুর রহমান খবর পেয়ে স্কুলে ছুটে আসেন এবং আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষগনের কাছে সুপারিশ প্রেরন করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, কিসমত মৌকরন নিবাসী দিন মজুর আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী তামান্না আক্তার প্রি-টেস্ট পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় ৪ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক ও সহঃ শিক্ষক অমল চন্দ্র তাকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়। তামান্না লজ্জায় বাড়িগিয়ে রুমের দরজা আটকিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নাহত্যার চেষ্টা করছিল। এ সময় টের পেয়ে স্বজনরা দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে বরিশাল মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাকে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা করানো হচ্ছে বলে স্বজনরা জানান। সে এখন সুস্থ বলেও স্বজনরা জানান।