
মিজানুর রহমান রিপন:মহিপুর (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর মহিপুর বাজারে জাল টাকা দিয়ে কেনাকাটা করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন মোহাম্মদ আব্দুল সালাম শেখ (৫০) নামে এক ব্যাক্তি। তিনি ঝালকাঠি জেলার পরমহল গ্রামের বাসিন্দা এবং মৌলভী মাহবুবুর রহমান শেখের ছেলে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সাপ্তাহিক হাটে মানুষের ভিড়ের সময় সালাম শেখ এক দোকান থেকে কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে ৫০০ টাকার একটি নোট দেন। দোকানদার নোট হাতে নিয়েই সন্দেহজনক মনে করেন। রঙ ও কাগজের মান অস্বাভাবিক হওয়ায় তিনি আশপাশের লোকজনকে দেখান। মুহূর্তেই বাজারে হৈচৈ পড়ে যায় এবং উপস্থিত ক্রেতা-বিক্রেতারা তাকে ধরে ফেলে। খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদার মো. মাসুম বিল্লাহ শেখ বলেন,আমি টাকা হাতে নিয়েই বুঝলাম কিছু একটা সমস্যা আছে। সরকারি নোটের মতো চকচক করছে না। পরে সবাইকে দেখাই, তখন ধরা পড়ে যায়। ভাগ্য ভালো, সময়মতো টের পেয়েছি।”
স্থানীয় ক্রেতা প্রতীক দাস বলেন,আমরাতো প্রতিদিন এই বাজারে কেনাকাটা করি। যদি জাল টাকা ধরা না পড়ত আমাদেরই ক্ষতি হতো। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
আরেক দোকানদার আলাউদ্দিন বলেন
জাল টাকার ভয় এখন নতুন নয়। বাজারে মাঝেমধ্যেই এরকম গুজব শোনা যায়। তবে হাতেনাতে কাউকে ধরা এটাই প্রথম।
এ বিষয়ে মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন,আটক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নোট প্রাথমিকভাবে জাল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক জাল টাকার মামলা রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্রটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী আসল নোটে লুকানো সিকিউরিটি থ্রেড, জলছাপ, কালার শিফটিং কালির সংখ্যা এবং কাগজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে। বাজারে লেনদেনের সময় এ বিষয়গুলো খেয়াল করলে অনেক সময় জাল টাকা সহজেই ধরা যায়।
ঘটনার পর মহিপুর বাজারজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়—জাল টাকা চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাই সবাইকে আরও সচেতন হওয়া জরুরি।
মিজানুর রহমান রিপন 


















