দিনাজপুরের বিরামপুরের অসহায় পরিবারের জমির ফলের গাছ কেটে নিধন,রাজনৈতিক প্রতি হিংসার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ১৬ Time View

 

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

দিনাজপুর জেলার একটি গ্রামে অসহায় গরিব পরিবারের দখলকৃত জমির ওপর রোপণ করা শতাধিক ফলের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়,উপজেলার মামুদপুর এলাকার হঠাৎ পাড়া গ্রামের এনামুল হক (৬৫),মহর আলী,এমদাদুল ও মোকছেদুল (পিতা মৃত রফিতুল্লাহ) দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৪৭ শতক জমি ভোগদখল করে আসছেন। ২০১১ সাল থেকে ওই জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ ও মামলা চলমান রয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ তাদের পক্ষে আদালতের রায় পেয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও বাস্তবে জমিটি দীর্ঘদিন ধরে বাদীপক্ষের দখলে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন,গত ৫ মার্চ ২০২৬ সকালবেলা তারা বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষ দলবদ্ধভাবে এসে জমির ওপর থাকা বিভিন্ন ফলের গাছ কেটে ফেলে দেয়। কেটে ফেলা গাছের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩০০টি কলাগাছ, ২৫টি আমগাছ,২৫টি কাঁঠালগাছ,১টি লেবুগাছ এবং ২টি নিমগাছ আরও অন্য প্রজাতির গাছ কেটে নিধন করেছে তাদের দাবি,এই জমির কলাগাছ ও অন্যান্য ফল বিক্রি করেই তাদের পরিবার চলতো। হঠাৎ করে সব গাছ কেটে ফেলায় পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন,স্থানীয় কিছু জামায়াত পন্থী ব্যক্তি— নজরুল ইসলাম,মতিউর,মোফাজ্জল,এখলাছ, অহিদুলসহ আরও কয়েকজন লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে গাছগুলো কেটে ফেলে। তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে বলেও দাবি করেন। ভুক্ত ভোগীরা বলেন,“আমরা অসহায় ও নিঃস্ব পরিবার। আমরা বিএনপি করি—এটাই নাকি আমাদের বড় অপরাধ। এই কারণেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে জামায়াতের লোকজন আমাদের ওপর বারবার হামলা ও নির্যাতন চালাচ্ছে।”
এ ঘটনায় তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দেশের নেতৃত্বের কাছেও তাদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা দেখছেন যে জমিটি বাদীপক্ষই চাষাবাদ ও দখলে রেখে আসছে। হঠাৎ করে গাছ কেটে ফেলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন l

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার এনামুল হক রাশেদীঃ বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরের আভিজাত রেস্টুরেন্টে এসইবিডি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ ও উদ্যোক্তা মিটআপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত:

দিনাজপুরের বিরামপুরের অসহায় পরিবারের জমির ফলের গাছ কেটে নিধন,রাজনৈতিক প্রতি হিংসার অভিযোগ

Update Time : ০৫:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

 

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

দিনাজপুর জেলার একটি গ্রামে অসহায় গরিব পরিবারের দখলকৃত জমির ওপর রোপণ করা শতাধিক ফলের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়,উপজেলার মামুদপুর এলাকার হঠাৎ পাড়া গ্রামের এনামুল হক (৬৫),মহর আলী,এমদাদুল ও মোকছেদুল (পিতা মৃত রফিতুল্লাহ) দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৪৭ শতক জমি ভোগদখল করে আসছেন। ২০১১ সাল থেকে ওই জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ ও মামলা চলমান রয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ তাদের পক্ষে আদালতের রায় পেয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও বাস্তবে জমিটি দীর্ঘদিন ধরে বাদীপক্ষের দখলে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন,গত ৫ মার্চ ২০২৬ সকালবেলা তারা বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষ দলবদ্ধভাবে এসে জমির ওপর থাকা বিভিন্ন ফলের গাছ কেটে ফেলে দেয়। কেটে ফেলা গাছের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩০০টি কলাগাছ, ২৫টি আমগাছ,২৫টি কাঁঠালগাছ,১টি লেবুগাছ এবং ২টি নিমগাছ আরও অন্য প্রজাতির গাছ কেটে নিধন করেছে তাদের দাবি,এই জমির কলাগাছ ও অন্যান্য ফল বিক্রি করেই তাদের পরিবার চলতো। হঠাৎ করে সব গাছ কেটে ফেলায় পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন,স্থানীয় কিছু জামায়াত পন্থী ব্যক্তি— নজরুল ইসলাম,মতিউর,মোফাজ্জল,এখলাছ, অহিদুলসহ আরও কয়েকজন লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে গাছগুলো কেটে ফেলে। তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে বলেও দাবি করেন। ভুক্ত ভোগীরা বলেন,“আমরা অসহায় ও নিঃস্ব পরিবার। আমরা বিএনপি করি—এটাই নাকি আমাদের বড় অপরাধ। এই কারণেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে জামায়াতের লোকজন আমাদের ওপর বারবার হামলা ও নির্যাতন চালাচ্ছে।”
এ ঘটনায় তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দেশের নেতৃত্বের কাছেও তাদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা দেখছেন যে জমিটি বাদীপক্ষই চাষাবাদ ও দখলে রেখে আসছে। হঠাৎ করে গাছ কেটে ফেলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন l