মদনে জ্বালানি সংকট তীব্র, খোলা বাজারে চড়া দামে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০৯ Time View

মোঃ রাসেল আহমেদ
ক্রাইম রিপোর্টার, নেত্রকোনা
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এই সুযোগে খোলা বাজারে বোতলজাত পেট্রোল স্বাভাবিক দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে মদন উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে মোটরসাইকেল চালক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষা, তবুও মিলছে না পেট্রোল
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় স্টেশন কর্তৃপক্ষ ‘তেল নেই’ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এতে দৈনন্দিন যাতায়াত ও পেশাগত কাজে বিঘ্ন ঘটছে।
খোলা বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি
এদিকে সংকটকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থানে বোতলজাত পেট্রোল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে জ্বালানি কিনছেন।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন মালিকরা দাবি করছেন, সরবরাহ ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহলের উদ্বেগ
সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। জ্বালানি সংকট নিরসন ও ন্যায্যমূল্যে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন,
“বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার এনামুল হক রাশেদীঃ বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরের আভিজাত রেস্টুরেন্টে এসইবিডি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ ও উদ্যোক্তা মিটআপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত:

মদনে জ্বালানি সংকট তীব্র, খোলা বাজারে চড়া দামে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ

Update Time : ০৬:৪৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ রাসেল আহমেদ
ক্রাইম রিপোর্টার, নেত্রকোনা
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এই সুযোগে খোলা বাজারে বোতলজাত পেট্রোল স্বাভাবিক দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে মদন উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে মোটরসাইকেল চালক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষা, তবুও মিলছে না পেট্রোল
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় স্টেশন কর্তৃপক্ষ ‘তেল নেই’ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এতে দৈনন্দিন যাতায়াত ও পেশাগত কাজে বিঘ্ন ঘটছে।
খোলা বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি
এদিকে সংকটকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থানে বোতলজাত পেট্রোল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে জ্বালানি কিনছেন।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন মালিকরা দাবি করছেন, সরবরাহ ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহলের উদ্বেগ
সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। জ্বালানি সংকট নিরসন ও ন্যায্যমূল্যে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন,
“বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।