
মোঃ রাসেল আহমেদ, ক্রাইম রিপোর্টার, নেত্রকোণা
নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের বনতিয়শ্রী গ্রামে প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। টুর্নামেন্টের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া টেলিভিশন নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক চা দোকানিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ রুবেল মিয়া (৪২) বাদী হয়ে মদন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল বিকেলে বনতিয়শ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বনতিয়শ্রী উত্তরপাড়া বনাম দক্ষিণপাড়ার মধ্যে একটি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় উত্তরপাড়া দল বিজয়ী হলে তাদেরকে পুরস্কার হিসেবে একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে টেলিভিশনটি নষ্ট পাওয়ায় খেলোয়াড় ও আয়োজক কমিটির মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে বিরোধে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় খেলা আয়োজনের আগেই ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব সামিউল হায়দার শফি খেলা না করার জন্য আয়োজকদের নিষেধ করেছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় গ্রামের মাদবর ও সাবেক ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন, ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি জনাব আসাদুজ্জামান দিলীপ, ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জনাব কাওসার আহমেদ এবং ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আফিজ তালুকদার পলাশসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা খেলার আয়োজন না করার জন্য আয়োজক কমিটিকে অনুরোধ জানান।
এছাড়াও বিষয়টি মদন থানাকে অবহিত করা হয় এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে খেলাটি বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়। জানা যায়, মদন থানা থেকেও খেলা না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং আয়োজক কমিটিকে থানায় ডাকা হলেও তারা উপস্থিত হননি এবং কোনো ধরনের অনুমতিও নেননি। পরবর্তীতে সকল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই খেলার আয়োজন করা হয়।
ভুক্তভোগী রুবেল মিয়ার অভিযোগ, তিনি বিজয়ী দলের এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মামুন মিয়া (৩৫), অপু মিয়া (২৭), খসরু মিয়া (৪৫) সহ ৫-৭ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার দোকানের সামনে এসে গালিগালাজ করে এবং মারধরের চেষ্টা চালায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে এলাকা ছাড়া করা এবং সুযোগ বুঝে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
লিখিত অভিযোগে মামুন মিয়া, অপু মিয়া, খসরু মিয়া, লাল বাদশা, শেলু মিয়া, ইসলাম উদ্দিন ও মোসলিম উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জজ মিয়া, কাউছার মিয়া ও রাসেল আহমেদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রুবেল মিয়া বলেন, “আমি সাধারণ একজন চা দোকানি। কোনো কারণ ছাড়াই তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খেলা আয়োজনের কারণে বর্তমানে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষ, মারামারি ও দাঙ্গার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই খেলার আয়োজকদের থানায় ডেকে নিয়ে নিষেধাজ্ঞার পরেও কেন তারা খেলাটি পরিচালনা করলো তা তদন্ত করে তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাসনাত জামান জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা
Reporter Name 

















