নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফুটবল টুর্নামেন্ট; টিভি বিরোধে হুমকি, মদনে উত্তেজনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯১ Time View

মোঃ রাসেল আহমেদ, ক্রাইম রিপোর্টার, নেত্রকোণা
নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের বনতিয়শ্রী গ্রামে প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। টুর্নামেন্টের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া টেলিভিশন নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক চা দোকানিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ রুবেল মিয়া (৪২) বাদী হয়ে মদন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল বিকেলে বনতিয়শ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বনতিয়শ্রী উত্তরপাড়া বনাম দক্ষিণপাড়ার মধ্যে একটি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় উত্তরপাড়া দল বিজয়ী হলে তাদেরকে পুরস্কার হিসেবে একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে টেলিভিশনটি নষ্ট পাওয়ায় খেলোয়াড় ও আয়োজক কমিটির মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে বিরোধে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় খেলা আয়োজনের আগেই ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব সামিউল হায়দার শফি খেলা না করার জন্য আয়োজকদের নিষেধ করেছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় গ্রামের মাদবর ও সাবেক ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন, ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি জনাব আসাদুজ্জামান দিলীপ, ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জনাব কাওসার আহমেদ এবং ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আফিজ তালুকদার পলাশসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা খেলার আয়োজন না করার জন্য আয়োজক কমিটিকে অনুরোধ জানান।
এছাড়াও বিষয়টি মদন থানাকে অবহিত করা হয় এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে খেলাটি বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়। জানা যায়, মদন থানা থেকেও খেলা না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং আয়োজক কমিটিকে থানায় ডাকা হলেও তারা উপস্থিত হননি এবং কোনো ধরনের অনুমতিও নেননি। পরবর্তীতে সকল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই খেলার আয়োজন করা হয়।
ভুক্তভোগী রুবেল মিয়ার অভিযোগ, তিনি বিজয়ী দলের এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মামুন মিয়া (৩৫), অপু মিয়া (২৭), খসরু মিয়া (৪৫) সহ ৫-৭ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার দোকানের সামনে এসে গালিগালাজ করে এবং মারধরের চেষ্টা চালায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে এলাকা ছাড়া করা এবং সুযোগ বুঝে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
লিখিত অভিযোগে মামুন মিয়া, অপু মিয়া, খসরু মিয়া, লাল বাদশা, শেলু মিয়া, ইসলাম উদ্দিন ও মোসলিম উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জজ মিয়া, কাউছার মিয়া ও রাসেল আহমেদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রুবেল মিয়া বলেন, “আমি সাধারণ একজন চা দোকানি। কোনো কারণ ছাড়াই তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খেলা আয়োজনের কারণে বর্তমানে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষ, মারামারি ও দাঙ্গার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই খেলার আয়োজকদের থানায় ডেকে নিয়ে নিষেধাজ্ঞার পরেও কেন তারা খেলাটি পরিচালনা করলো তা তদন্ত করে তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাসনাত জামান জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার এনামুল হক রাশেদীঃ বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরের আভিজাত রেস্টুরেন্টে এসইবিডি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ ও উদ্যোক্তা মিটআপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত:

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফুটবল টুর্নামেন্ট; টিভি বিরোধে হুমকি, মদনে উত্তেজনা

Update Time : ০৬:১৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ রাসেল আহমেদ, ক্রাইম রিপোর্টার, নেত্রকোণা
নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের বনতিয়শ্রী গ্রামে প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। টুর্নামেন্টের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া টেলিভিশন নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক চা দোকানিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ রুবেল মিয়া (৪২) বাদী হয়ে মদন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল বিকেলে বনতিয়শ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বনতিয়শ্রী উত্তরপাড়া বনাম দক্ষিণপাড়ার মধ্যে একটি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় উত্তরপাড়া দল বিজয়ী হলে তাদেরকে পুরস্কার হিসেবে একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে টেলিভিশনটি নষ্ট পাওয়ায় খেলোয়াড় ও আয়োজক কমিটির মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে বিরোধে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় খেলা আয়োজনের আগেই ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব সামিউল হায়দার শফি খেলা না করার জন্য আয়োজকদের নিষেধ করেছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় গ্রামের মাদবর ও সাবেক ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন, ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি জনাব আসাদুজ্জামান দিলীপ, ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জনাব কাওসার আহমেদ এবং ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আফিজ তালুকদার পলাশসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা খেলার আয়োজন না করার জন্য আয়োজক কমিটিকে অনুরোধ জানান।
এছাড়াও বিষয়টি মদন থানাকে অবহিত করা হয় এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে খেলাটি বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়। জানা যায়, মদন থানা থেকেও খেলা না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং আয়োজক কমিটিকে থানায় ডাকা হলেও তারা উপস্থিত হননি এবং কোনো ধরনের অনুমতিও নেননি। পরবর্তীতে সকল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই খেলার আয়োজন করা হয়।
ভুক্তভোগী রুবেল মিয়ার অভিযোগ, তিনি বিজয়ী দলের এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মামুন মিয়া (৩৫), অপু মিয়া (২৭), খসরু মিয়া (৪৫) সহ ৫-৭ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার দোকানের সামনে এসে গালিগালাজ করে এবং মারধরের চেষ্টা চালায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে এলাকা ছাড়া করা এবং সুযোগ বুঝে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
লিখিত অভিযোগে মামুন মিয়া, অপু মিয়া, খসরু মিয়া, লাল বাদশা, শেলু মিয়া, ইসলাম উদ্দিন ও মোসলিম উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জজ মিয়া, কাউছার মিয়া ও রাসেল আহমেদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রুবেল মিয়া বলেন, “আমি সাধারণ একজন চা দোকানি। কোনো কারণ ছাড়াই তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খেলা আয়োজনের কারণে বর্তমানে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষ, মারামারি ও দাঙ্গার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই খেলার আয়োজকদের থানায় ডেকে নিয়ে নিষেধাজ্ঞার পরেও কেন তারা খেলাটি পরিচালনা করলো তা তদন্ত করে তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাসনাত জামান জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা