কলাপাড়া ইউএনও এর নামে কুয়াকাটায় চলছে পার্কিং সহ নামে বেনামে চাঁদা আদায়ের উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক : শীতের শেষ ও ফাল্গুন আসার পূর্ব থেকেই কুয়াকাটায় বাড়ছে পর্যটকদের চাপ। আগত পর্যটকদের কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে বিভিন্ন নামে চাঁদাবাজি। উপজেলা প্রশাসনের নামে চাঁদা আদায়ের রশিদ কেটে প্রতিটি যানবাহন থেকে আদায় করে টাকা। রশিদে উল্লেখিত পরিমান টাকার বাইরেও আদায় হয় কয়েক গুণ টাকা। চাঁদা সংগ্রহে রয়েছে বেতনভুক্ত কর্মী।

সারেজমিনে জানা যায়, কুয়াকাটা সৈকতে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে প্রতিদিন ঘুরতে আসছে হাজার হাজার মানুষ। অধিকাংশই দল বেঁধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরিবহনের বাস নিয়ে বেড়াতে আসে এখানে। কুয়াকাটা পৌর বাস টার্মিনাল ছাড়াও আরো তিনটি স্থানে বাস পার্কিংয়ের জায়গা রয়েছে। এছাড়াও সৈকত সংলগ্ন ভেরিবাধে সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০টি বাস নিয়ে ঘুরতে আসে পর্যটকরা। পৌর বাস টার্মিনাল বাদে পৌরসভায় প্রবেশ করতে দিতে হয় ১০০ টাকা, প্রতিটি পার্কিংয়ের জন্য গুনতে হয় ৩০০-৫০০ টাকা, বেড়াতে আসা টুরিস্টদের অস্থায়ী রান্নার জন্য গুনতে হয় ৫০০-৬০০ টাকা, পানি সরবরাহের জন্য গুনতে হয় আরো ৪০০ টাকা। উপজেলা প্রশাসনের স্বঘোষিত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে গুনতে হয় আরো ৩০০থেকে ৫০০ টাকা। পৌরসভার মাধ্যমে চারটি পাবলিক টয়লেট থাকা সত্ত্বেও অস্থায়ী টয়লেট বসিয়ে আদায় করা হয় টাকা। দুপুর ২ টার পর কোন বাস অবস্থান করলে তাকে গুনতে হবে পরবর্তী দিনের ভাড়া। একটি বাস কুয়াকাটার অবস্থান করলে গুনতে হবে ১৫০০-১৮০০ টাকা। এসব সংগ্রহে নিয়োজিত রয়েছে উপজেলা প্রশাসন থেকে ১০-১৫ জনের একদল কর্মী। রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের নামে চাঁদা আদায়ের রশিদ। কুয়াকাটা টুরিস্ট এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার উপরে প্রশাসনের নামে চাঁদা আদায় হয়। এছাড়াও পার্কিং সংলগ্ন অন্তত ১৫০ টির মত অস্থায়ী দোকান বসার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভাতের হোটেল, চকলেট আচার, ঝিনুক মালা সহ চা সিগারেটের দোকান। বিগত বছরগুলোয় মাসে ১০ হাজার টাকা ভাড়া দিলে এবছর এখনো কোনো ভাড়া নির্ধারণ হয়নি।
জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে এই চাঁদাবাজি প্রথা চালু করে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগ। ৫ ই আগস্ট স্বৈরশাসক পতনের পর দায়িত্ব নেয় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার যিনি বর্তমানেও দায়িত্বে আছেন। উপজেলা জনপ্রতিনিধি না থাকার সুযোগে নির্বাহী কর্মকর্তা পৌরসভা থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে চালাচ্ছে তার আধিপত্য। এছাড়াও উপজেলা সহকর্মীদের উপর চালাচ্ছে প্রভাব। স্বৈরশাসকের প্রচলিত প্রথার কোন পরিবর্তন হয়নি তাহার মাধ্যমে।

সরাসরি চাঁদা আদায়কারী মোঃ কবির হোসেন বলেন, আমি আছি টোটাল মাঠের দায়িত্বে। আমি ইউএনও স্যারের সাথে এইটার দ্বায়ীত্বে। আমাকে বেতন দেয় ১০ হাজার টাকা। আমি ছাড়াও সবখানে স্যারের লোক রয়েছে। যেখানে যেখানে গাড়ি রাখে সব জায়গায় স্যারের লোক আছে। এই মাঠের ভিতরে ঢুকলে সব টাকা আমি আদায় করি। বাসপ্রতি ১৬০০ টাকা আসে আমি ১৫০০ পর্যন্ত রাখতে পারি। এর চেয়েও কমাতে চাইলে ইউএনও স্যারের সাথে আলাপ করেন।

বাস চালক আবুল কালাম বলেন, আমি প্রতিমাসে ২-৩ বার টুরিস্টদের নিয়ে আসি। স্থানীয় চাঁদাবাজদের উৎপাতে আমরা অতিষ্ঠ। রাস্তায় দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সবখানে চাঁদা দিতে দিতে আমরা ক্লান্ত। টাকা পরিশোধ না করায় অনেকের গাড়ির চাবি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, রশিদ কেটে যেটা আদায় হয় সেটা লিগাল এবং খাস আদায় চলমান। এটা জেলা প্রশাসনের পার্কিং। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গাড়িগুলো সুশৃংখলভাবে রাখার জন্য ডাল দিয়ে সুশৃঙ্খভাবে রাখার জন্য প্রতিবছর এ ব্যবস্থা করা হয়। বরং এটা বাদে বাকি সবগুলোই ইলিগাল। বাস প্রতি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা অতিরিক্ত কেহ নিলে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ডিডিএলজি) জুয়েল রানা বলেন, ডিসি স্যার ছুটিতে থাকায় আমি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আছি। আমি এই ব্যাপারটি প্রথম অবগত হলাম। এখানে কোন অনিয়ম আছে কিনা ব্যাপারটি খতিয়ে দেখব।

আ/স/১৭/০২/২০২৫/আকাশ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার এনামুল হক রাশেদীঃ বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরের আভিজাত রেস্টুরেন্টে এসইবিডি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ ও উদ্যোক্তা মিটআপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত:

কলাপাড়া ইউএনও এর নামে কুয়াকাটায় চলছে পার্কিং সহ নামে বেনামে চাঁদা আদায়ের উৎসব

Update Time : ০১:৩৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : শীতের শেষ ও ফাল্গুন আসার পূর্ব থেকেই কুয়াকাটায় বাড়ছে পর্যটকদের চাপ। আগত পর্যটকদের কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে বিভিন্ন নামে চাঁদাবাজি। উপজেলা প্রশাসনের নামে চাঁদা আদায়ের রশিদ কেটে প্রতিটি যানবাহন থেকে আদায় করে টাকা। রশিদে উল্লেখিত পরিমান টাকার বাইরেও আদায় হয় কয়েক গুণ টাকা। চাঁদা সংগ্রহে রয়েছে বেতনভুক্ত কর্মী।

সারেজমিনে জানা যায়, কুয়াকাটা সৈকতে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে প্রতিদিন ঘুরতে আসছে হাজার হাজার মানুষ। অধিকাংশই দল বেঁধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরিবহনের বাস নিয়ে বেড়াতে আসে এখানে। কুয়াকাটা পৌর বাস টার্মিনাল ছাড়াও আরো তিনটি স্থানে বাস পার্কিংয়ের জায়গা রয়েছে। এছাড়াও সৈকত সংলগ্ন ভেরিবাধে সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০টি বাস নিয়ে ঘুরতে আসে পর্যটকরা। পৌর বাস টার্মিনাল বাদে পৌরসভায় প্রবেশ করতে দিতে হয় ১০০ টাকা, প্রতিটি পার্কিংয়ের জন্য গুনতে হয় ৩০০-৫০০ টাকা, বেড়াতে আসা টুরিস্টদের অস্থায়ী রান্নার জন্য গুনতে হয় ৫০০-৬০০ টাকা, পানি সরবরাহের জন্য গুনতে হয় আরো ৪০০ টাকা। উপজেলা প্রশাসনের স্বঘোষিত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে গুনতে হয় আরো ৩০০থেকে ৫০০ টাকা। পৌরসভার মাধ্যমে চারটি পাবলিক টয়লেট থাকা সত্ত্বেও অস্থায়ী টয়লেট বসিয়ে আদায় করা হয় টাকা। দুপুর ২ টার পর কোন বাস অবস্থান করলে তাকে গুনতে হবে পরবর্তী দিনের ভাড়া। একটি বাস কুয়াকাটার অবস্থান করলে গুনতে হবে ১৫০০-১৮০০ টাকা। এসব সংগ্রহে নিয়োজিত রয়েছে উপজেলা প্রশাসন থেকে ১০-১৫ জনের একদল কর্মী। রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের নামে চাঁদা আদায়ের রশিদ। কুয়াকাটা টুরিস্ট এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার উপরে প্রশাসনের নামে চাঁদা আদায় হয়। এছাড়াও পার্কিং সংলগ্ন অন্তত ১৫০ টির মত অস্থায়ী দোকান বসার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভাতের হোটেল, চকলেট আচার, ঝিনুক মালা সহ চা সিগারেটের দোকান। বিগত বছরগুলোয় মাসে ১০ হাজার টাকা ভাড়া দিলে এবছর এখনো কোনো ভাড়া নির্ধারণ হয়নি।
জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে এই চাঁদাবাজি প্রথা চালু করে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগ। ৫ ই আগস্ট স্বৈরশাসক পতনের পর দায়িত্ব নেয় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার যিনি বর্তমানেও দায়িত্বে আছেন। উপজেলা জনপ্রতিনিধি না থাকার সুযোগে নির্বাহী কর্মকর্তা পৌরসভা থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে চালাচ্ছে তার আধিপত্য। এছাড়াও উপজেলা সহকর্মীদের উপর চালাচ্ছে প্রভাব। স্বৈরশাসকের প্রচলিত প্রথার কোন পরিবর্তন হয়নি তাহার মাধ্যমে।

সরাসরি চাঁদা আদায়কারী মোঃ কবির হোসেন বলেন, আমি আছি টোটাল মাঠের দায়িত্বে। আমি ইউএনও স্যারের সাথে এইটার দ্বায়ীত্বে। আমাকে বেতন দেয় ১০ হাজার টাকা। আমি ছাড়াও সবখানে স্যারের লোক রয়েছে। যেখানে যেখানে গাড়ি রাখে সব জায়গায় স্যারের লোক আছে। এই মাঠের ভিতরে ঢুকলে সব টাকা আমি আদায় করি। বাসপ্রতি ১৬০০ টাকা আসে আমি ১৫০০ পর্যন্ত রাখতে পারি। এর চেয়েও কমাতে চাইলে ইউএনও স্যারের সাথে আলাপ করেন।

বাস চালক আবুল কালাম বলেন, আমি প্রতিমাসে ২-৩ বার টুরিস্টদের নিয়ে আসি। স্থানীয় চাঁদাবাজদের উৎপাতে আমরা অতিষ্ঠ। রাস্তায় দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সবখানে চাঁদা দিতে দিতে আমরা ক্লান্ত। টাকা পরিশোধ না করায় অনেকের গাড়ির চাবি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, রশিদ কেটে যেটা আদায় হয় সেটা লিগাল এবং খাস আদায় চলমান। এটা জেলা প্রশাসনের পার্কিং। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গাড়িগুলো সুশৃংখলভাবে রাখার জন্য ডাল দিয়ে সুশৃঙ্খভাবে রাখার জন্য প্রতিবছর এ ব্যবস্থা করা হয়। বরং এটা বাদে বাকি সবগুলোই ইলিগাল। বাস প্রতি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা অতিরিক্ত কেহ নিলে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ডিডিএলজি) জুয়েল রানা বলেন, ডিসি স্যার ছুটিতে থাকায় আমি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আছি। আমি এই ব্যাপারটি প্রথম অবগত হলাম। এখানে কোন অনিয়ম আছে কিনা ব্যাপারটি খতিয়ে দেখব।

আ/স/১৭/০২/২০২৫/আকাশ