পটুয়াখালীতে অভিনব কৌশলে রেনু পাচার: কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার জব্দ, দুইজনকে জরিমানা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৩ Time View

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

পটুয়াখালীতে অভিনব পদ্ধতিতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চিংড়ি রেনু পাচারের সময় কোস্ট গার্ডের হাতে একটি বিলাসবহুল প্রাডো ল্যান্ড ক্রুজার জব্দ হয়েছে। পরে স্থানীয় প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উদ্ধারকৃত রেনু পোনাকে নদীতে অবমুক্ত করে এবং আটক দুই ব্যক্তিকে জরিমানা প্রদান করে।

জানা যায়, গলাচিপার বদনাতলী চরাঞ্চল থেকে ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৩৪৮৪ নম্বরের প্রাডো ল্যান্ড ক্রুজারে করে বাঘেরহাটের উদ্দেশ্যে রেনু পাচার চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড অভিযান চালিয়ে গাড়িটি আটক করে। এসময় গাড়িতে থাকা পরিবহন লাইনম্যান ফিরোজ আলম ও ড্রাইভার সফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়।

পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওজাতুন জান্নাত এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তপন মজুমদার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।

মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় দুইজনকে ১,০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়—একই অপরাধ পুনরাবৃত্তি করলে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।

এদিকে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একদল অসাধু চক্র সমুদ্র উপকূলে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে চিংড়ি রেনু আহরণ করিয়ে আসছে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে মো. সোহেল নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। রাতের আঁধারে এসব রেনু পোনা চরাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে গোপন পথে খুলনা–বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হয়। সোহেল ছাড়াও আরও কয়েকজন এই চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে দাবি স্থানীয়দের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওজাতুন জান্নাত বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে খবর পাওয়ার পরই আমরা দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি। অবৈধ রেনু পাচারে জড়িত দুইজনকে ১৮৮ ধারায় জরিমানা করা হয়েছে। পাচারের কাজে ব্যবহৃত জিপ গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী উপকূলে রেনু আহরণ ও পাচারের এই সক্রিয় চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার এনামুল হক রাশেদীঃ বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরের আভিজাত রেস্টুরেন্টে এসইবিডি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ ও উদ্যোক্তা মিটআপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত:

পটুয়াখালীতে অভিনব কৌশলে রেনু পাচার: কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার জব্দ, দুইজনকে জরিমানা

Update Time : ০৬:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

পটুয়াখালীতে অভিনব পদ্ধতিতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চিংড়ি রেনু পাচারের সময় কোস্ট গার্ডের হাতে একটি বিলাসবহুল প্রাডো ল্যান্ড ক্রুজার জব্দ হয়েছে। পরে স্থানীয় প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উদ্ধারকৃত রেনু পোনাকে নদীতে অবমুক্ত করে এবং আটক দুই ব্যক্তিকে জরিমানা প্রদান করে।

জানা যায়, গলাচিপার বদনাতলী চরাঞ্চল থেকে ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৩৪৮৪ নম্বরের প্রাডো ল্যান্ড ক্রুজারে করে বাঘেরহাটের উদ্দেশ্যে রেনু পাচার চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড অভিযান চালিয়ে গাড়িটি আটক করে। এসময় গাড়িতে থাকা পরিবহন লাইনম্যান ফিরোজ আলম ও ড্রাইভার সফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়।

পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওজাতুন জান্নাত এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তপন মজুমদার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।

মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় দুইজনকে ১,০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়—একই অপরাধ পুনরাবৃত্তি করলে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।

এদিকে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একদল অসাধু চক্র সমুদ্র উপকূলে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে চিংড়ি রেনু আহরণ করিয়ে আসছে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে মো. সোহেল নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। রাতের আঁধারে এসব রেনু পোনা চরাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে গোপন পথে খুলনা–বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হয়। সোহেল ছাড়াও আরও কয়েকজন এই চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে দাবি স্থানীয়দের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওজাতুন জান্নাত বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে খবর পাওয়ার পরই আমরা দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি। অবৈধ রেনু পাচারে জড়িত দুইজনকে ১৮৮ ধারায় জরিমানা করা হয়েছে। পাচারের কাজে ব্যবহৃত জিপ গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী উপকূলে রেনু আহরণ ও পাচারের এই সক্রিয় চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।