বঙ্গোপসাগরের বুকে অন্য এক ভুবন, “চর বিজয়’’

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

মো.নাহিদুল হক,কলাপাড়া(পটুয়াখালী):  বঙ্গোপসাগরের বুকে অন্য এক ভুবন, যার নাম “চর বিজয়’’। চারদিকে অথই জলরাশি, আর শুধু ধু-ধু বালু। নেই জনবসতি কিংবা গাছপালা। সকাল থেকে সন্ধ্যা চেনা-অচেনা নানা প্রজাতির অতিথি পাখির কলকাকলী ও লাল কাকঁড়ার ছুটো ছুটি। সাগরকন্যা কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা এ চরের সন্ধান মেলে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। বিজয়ের মাসে এর সন্ধান পাওয়ায় তাই নাম রাখা হয় “চর বিজয়”। সবমিলিয়ে এ চরটি এক অপার সম্ভাবনাময় পর্যটনস্থল। বর্তমানে চরের আয়তন আরও বড় হচ্ছে এবং সবুজ বনায়ন তৈরি হচ্ছে।

জানা গেছে, মনোমুগ্ধকর এই “চর বিজয়” আয়তন প্রায় ২ হাজার ৫৭৩ একর। আকৃতি কিছুটা ডিমের মতো। বর্ষা মৌসুমে এ চরটি পানিতে ডুবে থাকে। আর শীত মৌসুমে আর শীত মৌসুমে সাগরের মধ্যে বিশাল এলাকা নিয়ে জেগে ওঠে। ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের

অভয়ারণ্য হওয়ায় সারা বছর এর আশপাশে থাকে জেলেদের উপস্থিতি। জেলেদের ভাষ্যমতে এটি ‘‘হাইরের চর’’ হলেও বর্তমান ‘‘চর বিজয়’’ নামে বেশ পরিচিত।

তবে ভ্রমণপিপাসুদের একটি দল এই চরটির সন্ধান পায়। এ চরটিতে নেই কোনো দোকানপাট, তাই কুয়াকাটা থেকেই খাবার ও পানিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। সকালে গিয়ে ভ্রমণ উপভোগ করে বিকেলেই ফিরে আসতে হয়। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে এ চরটি যোগ হয়েছে এক নতুন মাত্রা। “চর বিজয়” পর্যটন শিল্পে ঘটবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এমন প্রত্যাশা করেছেন পর্যটকসহ ট্যুরিস্ট ব্যবসায়িরা।

এদিকে পশুপাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলার জন্য পুরো চরটিতে ঝাউসহ ম্যানগ্রোভ জাতীয় বনায়নের কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। তবে সঠিক তদারকিতে তৈরি হবে একটি বাসযোগ্য নতুন সমভ‚মি। যাকে ঘিরে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে তৈরি হবে আরেক ভিন্ন মাত্রা। এমন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।

পর্যটকরা বলেন,“চর বিজয়” আসলে একটি অপরূপ সৌন্দর্য। সমুদ্র মাঝখানে জেগে ওঠা চর। রয়েছে পাখিদের সমাহার এবং লাল কাঁকড়ার বিচরণ। এছাড়া চরটিতে দাঁড়িয়েই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকনের সুযোগ রয়েছে।

এটিও সেন্টমার্টিনের মত সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। ট্যুরিস্ট বোড মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক জনি আলমগীর বলেন, দিগন্ত জোড়া আকাশ আর সমুদ্রের নীল জল রাশি আছড়ে পড়ছে কিনারায়। এছাড়া সাদা গাংচিলের দল এদিক-ওদিক উড়ে যাচ্ছে। মানুষের উপস্থিত টের পেলেই লাল কাঁকড়ার দল ছুটা ছুটি করছে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। কাঁকড়াগুলো গর্তে লুকিয়ে থেকেও উঁকি দিয়ে পর্যটকদের গতিবিধি লক্ষ্য করছে। যা বিমোহিত করে পর্যটকদের। তাই প্রতিদিনই পর্যটকেরা ট্রলার-স্পিডবোটে নিয়ে চর বিজয় দেখতে যাচ্ছেন। তবে বনায়ন শুরু হয়েছে। বনের ছায়ায় অনেক সময় ধরে থাকতে পারবেন পর্যটকেরা।

পর্যটকদেরও আগমন বাড়বে। তবে এই চরটি হবে দেশের “দ্বিতীয় সেন্ট মার্টিন এমটাই মনে করছেন তিনি।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট সংগঠন কুয়াকাটা টুরিজাম ম্যানেজম্যন্ট অ্যাসোসিয়েশন কুটুমের সাধারন সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, সে দিন ছিল ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর। সৈকতের একটি চায়ের দোকানে বসে আমারা কয়েকজন মিলে কথা বলছিলাম, নুতন কোন জায়গায় বেড়াতে যাব। হঠাৎ করে এক জেলে বলেন, ভাই সাগরের মাঝে জেগে উঠেছে বিশাল একটি চর। তখন বুদ্ধি করলাম কি ভাবে যাব। পরে ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিলাম “নতুনের সন্ধানে আমরা” যাচ্ছি, আপনারাও সঙ্গী হতে পারেন। এরপর ২০১৭ সালে ৫ ডিসেম্বর কয়েক জন মিলে ট্রলার যোগে ওই চরে যাই। এর পর শুরু হয় এ চরটির শুভ সুচনা। বিজয়ের মাসে এ চরটি আবিষ্কার হয়েছে। তাই চর শব্দের সঙ্গে বিজয় শব্দটি যুক্ত করে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তারা। ওইসময় জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে বন বিভাগ এ চরে গোল, ছইলা, কেওড়া, সুন্দরসহ ম্যানগ্রোভ জাতিয় গাছের চারা রোপন করেছেন।

প্রতিবছর শীত মৌসুমে কয়েক লাখ অতিথি পাখির আগমন ঘটে। আর শীত কমলে আবার পাখিগুলো যে যার মতো অন্যত্র চলে যায়। এখন প্রতিদিনই পর্যটকরা ট্রলার যোগে এ চরটিকে দেখতে যায়।

মহিপুর বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বন বিভাগ চর বিজয়ে ৮০ হেক্টর ঝাউবাগান ও ২০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান করেছে। পর্যায়ক্রমে চর বিজয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের আওতায় আনা হবে।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, সাগরের মধ্যে জেগে ওঠা এক টুকরা বাংলাদেশ এই চর বিজয়। এটি কুয়াকাটার জন্য আশীর্বাদ। তবে চারদিকে ধুধু বালু। নেই ছায়াঘেরা স্থান। বন বিভাগ বনায়ন শুরু করেছে। শুধু লাল কাঁকড়া কিংবা অতিথি পাখিই নয়, ঝাউ ও ম্যানগ্রোভ বন পর্যটকদের টানবে চর বিজয়ে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার এনামুল হক রাশেদীঃ বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরের আভিজাত রেস্টুরেন্টে এসইবিডি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ ও উদ্যোক্তা মিটআপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত:

বঙ্গোপসাগরের বুকে অন্য এক ভুবন, “চর বিজয়’’

Update Time : ১০:৪৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ মে ২০২৪

মো.নাহিদুল হক,কলাপাড়া(পটুয়াখালী):  বঙ্গোপসাগরের বুকে অন্য এক ভুবন, যার নাম “চর বিজয়’’। চারদিকে অথই জলরাশি, আর শুধু ধু-ধু বালু। নেই জনবসতি কিংবা গাছপালা। সকাল থেকে সন্ধ্যা চেনা-অচেনা নানা প্রজাতির অতিথি পাখির কলকাকলী ও লাল কাকঁড়ার ছুটো ছুটি। সাগরকন্যা কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা এ চরের সন্ধান মেলে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। বিজয়ের মাসে এর সন্ধান পাওয়ায় তাই নাম রাখা হয় “চর বিজয়”। সবমিলিয়ে এ চরটি এক অপার সম্ভাবনাময় পর্যটনস্থল। বর্তমানে চরের আয়তন আরও বড় হচ্ছে এবং সবুজ বনায়ন তৈরি হচ্ছে।

জানা গেছে, মনোমুগ্ধকর এই “চর বিজয়” আয়তন প্রায় ২ হাজার ৫৭৩ একর। আকৃতি কিছুটা ডিমের মতো। বর্ষা মৌসুমে এ চরটি পানিতে ডুবে থাকে। আর শীত মৌসুমে আর শীত মৌসুমে সাগরের মধ্যে বিশাল এলাকা নিয়ে জেগে ওঠে। ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের

অভয়ারণ্য হওয়ায় সারা বছর এর আশপাশে থাকে জেলেদের উপস্থিতি। জেলেদের ভাষ্যমতে এটি ‘‘হাইরের চর’’ হলেও বর্তমান ‘‘চর বিজয়’’ নামে বেশ পরিচিত।

তবে ভ্রমণপিপাসুদের একটি দল এই চরটির সন্ধান পায়। এ চরটিতে নেই কোনো দোকানপাট, তাই কুয়াকাটা থেকেই খাবার ও পানিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। সকালে গিয়ে ভ্রমণ উপভোগ করে বিকেলেই ফিরে আসতে হয়। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে এ চরটি যোগ হয়েছে এক নতুন মাত্রা। “চর বিজয়” পর্যটন শিল্পে ঘটবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এমন প্রত্যাশা করেছেন পর্যটকসহ ট্যুরিস্ট ব্যবসায়িরা।

এদিকে পশুপাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলার জন্য পুরো চরটিতে ঝাউসহ ম্যানগ্রোভ জাতীয় বনায়নের কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। তবে সঠিক তদারকিতে তৈরি হবে একটি বাসযোগ্য নতুন সমভ‚মি। যাকে ঘিরে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে তৈরি হবে আরেক ভিন্ন মাত্রা। এমন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।

পর্যটকরা বলেন,“চর বিজয়” আসলে একটি অপরূপ সৌন্দর্য। সমুদ্র মাঝখানে জেগে ওঠা চর। রয়েছে পাখিদের সমাহার এবং লাল কাঁকড়ার বিচরণ। এছাড়া চরটিতে দাঁড়িয়েই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকনের সুযোগ রয়েছে।

এটিও সেন্টমার্টিনের মত সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। ট্যুরিস্ট বোড মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক জনি আলমগীর বলেন, দিগন্ত জোড়া আকাশ আর সমুদ্রের নীল জল রাশি আছড়ে পড়ছে কিনারায়। এছাড়া সাদা গাংচিলের দল এদিক-ওদিক উড়ে যাচ্ছে। মানুষের উপস্থিত টের পেলেই লাল কাঁকড়ার দল ছুটা ছুটি করছে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। কাঁকড়াগুলো গর্তে লুকিয়ে থেকেও উঁকি দিয়ে পর্যটকদের গতিবিধি লক্ষ্য করছে। যা বিমোহিত করে পর্যটকদের। তাই প্রতিদিনই পর্যটকেরা ট্রলার-স্পিডবোটে নিয়ে চর বিজয় দেখতে যাচ্ছেন। তবে বনায়ন শুরু হয়েছে। বনের ছায়ায় অনেক সময় ধরে থাকতে পারবেন পর্যটকেরা।

পর্যটকদেরও আগমন বাড়বে। তবে এই চরটি হবে দেশের “দ্বিতীয় সেন্ট মার্টিন এমটাই মনে করছেন তিনি।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট সংগঠন কুয়াকাটা টুরিজাম ম্যানেজম্যন্ট অ্যাসোসিয়েশন কুটুমের সাধারন সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, সে দিন ছিল ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর। সৈকতের একটি চায়ের দোকানে বসে আমারা কয়েকজন মিলে কথা বলছিলাম, নুতন কোন জায়গায় বেড়াতে যাব। হঠাৎ করে এক জেলে বলেন, ভাই সাগরের মাঝে জেগে উঠেছে বিশাল একটি চর। তখন বুদ্ধি করলাম কি ভাবে যাব। পরে ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিলাম “নতুনের সন্ধানে আমরা” যাচ্ছি, আপনারাও সঙ্গী হতে পারেন। এরপর ২০১৭ সালে ৫ ডিসেম্বর কয়েক জন মিলে ট্রলার যোগে ওই চরে যাই। এর পর শুরু হয় এ চরটির শুভ সুচনা। বিজয়ের মাসে এ চরটি আবিষ্কার হয়েছে। তাই চর শব্দের সঙ্গে বিজয় শব্দটি যুক্ত করে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তারা। ওইসময় জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে বন বিভাগ এ চরে গোল, ছইলা, কেওড়া, সুন্দরসহ ম্যানগ্রোভ জাতিয় গাছের চারা রোপন করেছেন।

প্রতিবছর শীত মৌসুমে কয়েক লাখ অতিথি পাখির আগমন ঘটে। আর শীত কমলে আবার পাখিগুলো যে যার মতো অন্যত্র চলে যায়। এখন প্রতিদিনই পর্যটকরা ট্রলার যোগে এ চরটিকে দেখতে যায়।

মহিপুর বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বন বিভাগ চর বিজয়ে ৮০ হেক্টর ঝাউবাগান ও ২০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান করেছে। পর্যায়ক্রমে চর বিজয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের আওতায় আনা হবে।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, সাগরের মধ্যে জেগে ওঠা এক টুকরা বাংলাদেশ এই চর বিজয়। এটি কুয়াকাটার জন্য আশীর্বাদ। তবে চারদিকে ধুধু বালু। নেই ছায়াঘেরা স্থান। বন বিভাগ বনায়ন শুরু করেছে। শুধু লাল কাঁকড়া কিংবা অতিথি পাখিই নয়, ঝাউ ও ম্যানগ্রোভ বন পর্যটকদের টানবে চর বিজয়ে।