বরগুনায় জাল দলিলে সরকারি খাল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বিএস রেকর্ডের অভিযোগ, তদন্ত দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫ Time View

 

মোঃ শাহজালাল, বরগুনা।।

বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী মৌজায় জাল দলিল ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে সরকারি খাল এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নিজের নামে বিএস রেকর্ড করানোর অভিযোগ উঠেছে ছোটবগী গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের হাওলাদারের ছেলে গোলাম মোস্তফা হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সরকারি খাল সরকারের নামে এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি প্রকৃত মালিকদের নামে পুনরায় রেকর্ড করতে হবে।

জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তালতলী উপজেলার ছোটবগী মৌজার এসএ নকশাভুক্ত ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অধীন ২৫২৭, ২৫৩৮ ও ২৬১২ নম্বর দাগে প্রায় ৪ দশমিক ৮৫ একর সরকারি খাল রয়েছে। কিন্তু বিএস জরিপের সময় সংশ্লিষ্ট জরিপ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে জাল দলিলের মাধ্যমে ওই সরকারি খালের একটি বড় অংশ বিএস খতিয়ান নং-৪৬২ এবং নবসৃষ্ট খতিয়ান নং-৭৪৯ ও ৭৫০-এ গোলাম মোস্তফা হাওলাদারের নামে রেকর্ড করানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসএ নকশায় যেখানে স্পষ্টভাবে সরকারি খাল দেখানো রয়েছে, সেখানে বিএস নকশায় ওই খালের অস্তিত্ব নেই। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি খালটি বিএস খতিয়ান নং-৪৬২-এ ব্যক্তিগত মালিকানায় রেকর্ড করা হয়েছে। এতে সরকারি সম্পত্তি বেহাত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের সেচব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসএ খতিয়ান নং-২৫০, ৩৪১ ও ৩৪২-এর সম্পূর্ণ জমি বহু আগেই গোলাম মোস্তফার পিতা আব্দুল কাদের হাওলাদার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। ফলে ওই খতিয়ানগুলোতে তার কোনো জমি অবশিষ্ট ছিল না। সে কারণে ওই সূত্র ধরে গোলাম মোস্তফার নামে বিএস রেকর্ড হওয়ার সুযোগ ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

স্থানীয়দের দাবি, গোলাম মোস্তফা কেবল তার চাচার সম্পত্তির একটি অংশ ভোগদখল করতেন। কিন্তু প্রকৃত মালিকদের নামে রেকর্ড না করে জাল দলিলের মাধ্যমে জরিপ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে নিজের নামে বিএস রেকর্ড করিয়ে নেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই জমির প্রকৃত মালিক পটুয়াখালী জেলার বড়বিঘাই এলাকার মেনাজ উদ্দিন গং।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, এসএ খতিয়ান নং-১৬১ ও ১৬২-এর কোনো জমি গোলাম মোস্তফা কবলা সূত্রে ক্রয় করেননি এবং তিনি ওই খতিয়ানের অংশীদারও নন। তারপরও জাল দলিল ব্যবহার করে বিএস খতিয়ান নং-৭৪৯, ৭৫০ ও ৪৬২-এ সরকারি খালসহ জমি নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী পক্ষের একজন জানান, তারা এসএ খতিয়ান নং-১৬১ ও ১৬২-এর জমি বৈধভাবে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। বর্তমানে তিনি বিদেশে অবস্থান করায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. ইসমাইল হাওলাদার বলেন, ২০০৮ ও ২০২১ সালে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে জমির সীমানা নির্ধারণ ও ভাগ-বাটোয়ারা সম্পন্ন হয়েছিল। তখন গোলাম মোস্তফার নামে কোনো জমি ছিল না। পরে বিএস জরিপের সময় জাল দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই কথিত জাল দলিল বন্ধক রেখে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, তালতলী শাখা থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন। ব্যাংকে জমা দেওয়া দলিল ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত নথিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো একটি চিঠির কপিও রয়েছে। সেখানে বিদেশে অবস্থানরত এক অভিযোগকারীর সম্পত্তি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারি খালটি বহু বছর ধরে এলাকার কৃষকদের সেচের একমাত্র উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদি সরকারি খাল ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড হয়ে থাকে, তাহলে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অবৈধ রেকর্ড বাতিল করে সরকারি খাল সরকারের নামে পুনর্বহাল এবং প্রকৃত মালিকদের জমি তাদের নামে রেকর্ড করার দাবি জানান তারা।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো জাল দলিল তৈরি করিনি। ২০০৮ সালের স্থানীয় সালিশ ও জমির ভাগ-বাটোয়ারার ভিত্তিতেই আমি জমির মালিকানা পেয়েছি। বিএস জরিপের সময় বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করেই রেকর্ড হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।’

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেবক মন্ডল বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। রেকর্ড, নকশা, মাঠ জরিপ ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি খালের জমি ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড থাকার সুযোগ নেই।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, তালতলী শাখার ব্যবস্থাপক বলেন, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহকের জমা দেওয়া দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা হয়। পরবর্তীতে কোনো সরকারি সংস্থা তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ পেলে বা রেকর্ড নিয়ে আপত্তি জানালে ব্যাংক প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে সরকারি খাল পুনরুদ্ধার, অবৈধ বিএস রেকর্ড বাতিল এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করবে প্রশাসন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রোমেল ক্রুজের খুঁটির জোর কোথায় মামলা করেও এ্যারেস্ট করতে পারছে না দুদক

বরগুনায় জাল দলিলে সরকারি খাল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বিএস রেকর্ডের অভিযোগ, তদন্ত দাবি

Update Time : ০৭:৪০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

 

মোঃ শাহজালাল, বরগুনা।।

বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী মৌজায় জাল দলিল ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে সরকারি খাল এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নিজের নামে বিএস রেকর্ড করানোর অভিযোগ উঠেছে ছোটবগী গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের হাওলাদারের ছেলে গোলাম মোস্তফা হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সরকারি খাল সরকারের নামে এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি প্রকৃত মালিকদের নামে পুনরায় রেকর্ড করতে হবে।

জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তালতলী উপজেলার ছোটবগী মৌজার এসএ নকশাভুক্ত ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অধীন ২৫২৭, ২৫৩৮ ও ২৬১২ নম্বর দাগে প্রায় ৪ দশমিক ৮৫ একর সরকারি খাল রয়েছে। কিন্তু বিএস জরিপের সময় সংশ্লিষ্ট জরিপ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে জাল দলিলের মাধ্যমে ওই সরকারি খালের একটি বড় অংশ বিএস খতিয়ান নং-৪৬২ এবং নবসৃষ্ট খতিয়ান নং-৭৪৯ ও ৭৫০-এ গোলাম মোস্তফা হাওলাদারের নামে রেকর্ড করানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসএ নকশায় যেখানে স্পষ্টভাবে সরকারি খাল দেখানো রয়েছে, সেখানে বিএস নকশায় ওই খালের অস্তিত্ব নেই। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি খালটি বিএস খতিয়ান নং-৪৬২-এ ব্যক্তিগত মালিকানায় রেকর্ড করা হয়েছে। এতে সরকারি সম্পত্তি বেহাত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের সেচব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসএ খতিয়ান নং-২৫০, ৩৪১ ও ৩৪২-এর সম্পূর্ণ জমি বহু আগেই গোলাম মোস্তফার পিতা আব্দুল কাদের হাওলাদার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। ফলে ওই খতিয়ানগুলোতে তার কোনো জমি অবশিষ্ট ছিল না। সে কারণে ওই সূত্র ধরে গোলাম মোস্তফার নামে বিএস রেকর্ড হওয়ার সুযোগ ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

স্থানীয়দের দাবি, গোলাম মোস্তফা কেবল তার চাচার সম্পত্তির একটি অংশ ভোগদখল করতেন। কিন্তু প্রকৃত মালিকদের নামে রেকর্ড না করে জাল দলিলের মাধ্যমে জরিপ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে নিজের নামে বিএস রেকর্ড করিয়ে নেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই জমির প্রকৃত মালিক পটুয়াখালী জেলার বড়বিঘাই এলাকার মেনাজ উদ্দিন গং।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, এসএ খতিয়ান নং-১৬১ ও ১৬২-এর কোনো জমি গোলাম মোস্তফা কবলা সূত্রে ক্রয় করেননি এবং তিনি ওই খতিয়ানের অংশীদারও নন। তারপরও জাল দলিল ব্যবহার করে বিএস খতিয়ান নং-৭৪৯, ৭৫০ ও ৪৬২-এ সরকারি খালসহ জমি নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী পক্ষের একজন জানান, তারা এসএ খতিয়ান নং-১৬১ ও ১৬২-এর জমি বৈধভাবে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। বর্তমানে তিনি বিদেশে অবস্থান করায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. ইসমাইল হাওলাদার বলেন, ২০০৮ ও ২০২১ সালে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে জমির সীমানা নির্ধারণ ও ভাগ-বাটোয়ারা সম্পন্ন হয়েছিল। তখন গোলাম মোস্তফার নামে কোনো জমি ছিল না। পরে বিএস জরিপের সময় জাল দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই কথিত জাল দলিল বন্ধক রেখে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, তালতলী শাখা থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন। ব্যাংকে জমা দেওয়া দলিল ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত নথিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো একটি চিঠির কপিও রয়েছে। সেখানে বিদেশে অবস্থানরত এক অভিযোগকারীর সম্পত্তি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারি খালটি বহু বছর ধরে এলাকার কৃষকদের সেচের একমাত্র উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদি সরকারি খাল ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড হয়ে থাকে, তাহলে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অবৈধ রেকর্ড বাতিল করে সরকারি খাল সরকারের নামে পুনর্বহাল এবং প্রকৃত মালিকদের জমি তাদের নামে রেকর্ড করার দাবি জানান তারা।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো জাল দলিল তৈরি করিনি। ২০০৮ সালের স্থানীয় সালিশ ও জমির ভাগ-বাটোয়ারার ভিত্তিতেই আমি জমির মালিকানা পেয়েছি। বিএস জরিপের সময় বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করেই রেকর্ড হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।’

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেবক মন্ডল বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। রেকর্ড, নকশা, মাঠ জরিপ ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি খালের জমি ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড থাকার সুযোগ নেই।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, তালতলী শাখার ব্যবস্থাপক বলেন, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহকের জমা দেওয়া দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা হয়। পরবর্তীতে কোনো সরকারি সংস্থা তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ পেলে বা রেকর্ড নিয়ে আপত্তি জানালে ব্যাংক প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে সরকারি খাল পুনরুদ্ধার, অবৈধ বিএস রেকর্ড বাতিল এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করবে প্রশাসন।