ভোলায় নিরুত্তাপ ভোটে আওয়ামী লীগ ছাড়া তেমন কারও আগ্রহ নেই

রিয়াজ ফরাজি, নিজস্ব প্রতিবেদক: ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখাঁন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২১মে। দুই উপজেলাতেই চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী আছেন। এরপরও ভোট নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উত্তাপ-উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে না। নিরুত্তাপ ভোটে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মী ছাড়া কারও তেমন কোনো আগ্রহ নেই।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করেছে নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করা বিএনপি ও সঙ্গী দলগুলো। ফলে সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচনও আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে লড়াই হতে যাচ্ছে। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো নির্বাচনে না আসায় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে আওয়ামী লীগ এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছে না।

ভোলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখাঁনে চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থী আছেন ৮জন। এর মধ্যে ৭জনই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতা। এ ছাড়া দুই উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭জন প্রার্থী হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সবাই আওয়ামী লীগের নেতা।

বিগত উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবার উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। ভোটের আগে সাধারণ ভোটার ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করত। এবার ভোটে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা প্রার্থী না হওয়ায় ভোটারদের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ কম। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে গণসংযোগ করেছেন। মাইকে চলেছে প্রচারণা। নির্বাচনী এলাকায় শোভা পাচ্ছে ব্যানার-পোস্টার। তবে এসব তৎপরতাও ভোটারদের মধ্যে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে মনে করছেন স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা।

বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, এখন আর নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ পাই না। যা হচ্ছে খালি দেখে যাই। আমি আমার এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী ছাড়া এলাকার কারও মধ্যে ভোট নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। এবারের নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছে, সবাই আওয়ামী লীগের। যে-ই জিতুক, আওয়ামী লীগেরই একজন জিতবে। ভোট দেওয়ার আগ্রহই হারিয়ে গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার এনামুল হক রাশেদীঃ বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরের আভিজাত রেস্টুরেন্টে এসইবিডি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ ও উদ্যোক্তা মিটআপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত:

ভোলায় নিরুত্তাপ ভোটে আওয়ামী লীগ ছাড়া তেমন কারও আগ্রহ নেই

Update Time : ০৮:০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪

রিয়াজ ফরাজি, নিজস্ব প্রতিবেদক: ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখাঁন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২১মে। দুই উপজেলাতেই চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী আছেন। এরপরও ভোট নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উত্তাপ-উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে না। নিরুত্তাপ ভোটে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মী ছাড়া কারও তেমন কোনো আগ্রহ নেই।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করেছে নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করা বিএনপি ও সঙ্গী দলগুলো। ফলে সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচনও আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে লড়াই হতে যাচ্ছে। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো নির্বাচনে না আসায় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে আওয়ামী লীগ এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছে না।

ভোলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখাঁনে চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থী আছেন ৮জন। এর মধ্যে ৭জনই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতা। এ ছাড়া দুই উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭জন প্রার্থী হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সবাই আওয়ামী লীগের নেতা।

বিগত উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবার উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। ভোটের আগে সাধারণ ভোটার ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করত। এবার ভোটে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা প্রার্থী না হওয়ায় ভোটারদের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ কম। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে গণসংযোগ করেছেন। মাইকে চলেছে প্রচারণা। নির্বাচনী এলাকায় শোভা পাচ্ছে ব্যানার-পোস্টার। তবে এসব তৎপরতাও ভোটারদের মধ্যে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে মনে করছেন স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা।

বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, এখন আর নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ পাই না। যা হচ্ছে খালি দেখে যাই। আমি আমার এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী ছাড়া এলাকার কারও মধ্যে ভোট নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। এবারের নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছে, সবাই আওয়ামী লীগের। যে-ই জিতুক, আওয়ামী লীগেরই একজন জিতবে। ভোট দেওয়ার আগ্রহই হারিয়ে গেছে।