মহিপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে রোগীদের চিকিৎসা সেবা

মিজানুর রহমান রিপন: পটুয়াখালীর মহিপুর থানা শহরের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রতিদিন রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দুর্ঘটনার শঙ্কায় আতংকিত থাকছেন।

দীর্ঘদিন ধরে এ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে নেই কোনো আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি এবং জনবল সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে ও ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে । কোথাও আবার ঢালাই ও পলেস্তারা খসে পড়ে রড বের হয়ে মরিচা ধরেছে। ভবনের বাহিরদিকের দেওয়ালে গাছের লতা পাতা ও পরগাছা জন্মেছে এযেনো দেখভালের কেউ নেই। তথাপি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দুইতলা বিশিষ্ট এ ভবনে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মোট ৮টি পদের মধ্যে ৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ, নাইট গার্ড ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ রয়েছে।বর্তমানে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও অফিস সহায়ক সহ মাত্র তিনজনে কোনোরকমে স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানে নেই কোন চিকিৎসা সেবার আধুনিক যন্ত্রপাতি । ফলে সেবাপ্রত্যাশী রোগীরা আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

মহিপুর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমাদের ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ, শিশু ও শিক্ষার্থীরা এ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসে। দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মিত না হলে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

ডালবুগঞ্জ থেকে আসা রোগী ইব্রাহীম দফাদার বলেন, বহু বছর আগে নির্মিত ভবনের দেয়াল ও ছাদে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ভেঙে পড়ছে ইটের গাথুনি ও ছাদের নির্মাণ সামগ্রী। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও বাধ্য হয়ে আমাদের এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

কুয়াকাটা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোজিনা বেগম বলেন,ভবনে প্রবেশ করলেই মনে হয় মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়বে। তবুও এভাবেই আমাদের ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নুরজাহান বেগম বলেন, জরাজীর্ণ ভবনের কারণে আমরাও আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছি। একাধিক কক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে এ ভবনের দোতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। বর্ষাকালে ছাদ থেকে পানি পড়ে এবং কোথাও কোথাও ভেঙে পড়ে নির্মাণ সামগ্রী। বিষয়টি একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আবিদা সুলতানা বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং কিছু কক্ষে ছাদ থেকে ঢালাই ও পলেস্তারা ভেঙে পড়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও আমাদের চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অপরদিকে আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি অভাব ও জনবল সংকটের কারণে রোগীদের প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী জানান, কিছুদিন পূর্বে ইঞ্জিনিয়ার এসে ভবনটি পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি প্রেরণ করেছি। এছাড়া আগামী অক্টোবরে নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হলে জনবল সংকট নিরসন হবে বলে আশা করছি।

স্থানীয়দের দাবি, একটি থানা শহর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার মতো একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এভাবে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চিকিৎসা সেবা চলছে যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
এছাড়া সরকারি এ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির অভাব ও পর্যাপ্ত জনবল সংকটের কারণে সেবা প্রত্যাশী রোগীরা আশেপাশের বিভিন্ন ডাইগোনষ্টিক ও ক্লিনিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছে । অনেকেই আবার উপজেলা ও জেলা শহরের সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অবিলম্বে নতুন ভবন নির্মাণ ও আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় তাগিদ জানান এলাকাবাসী।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার এনামুল হক রাশেদীঃ বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরের আভিজাত রেস্টুরেন্টে এসইবিডি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ ও উদ্যোক্তা মিটআপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত:

মহিপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে রোগীদের চিকিৎসা সেবা

Update Time : ১০:৪৮:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মিজানুর রহমান রিপন: পটুয়াখালীর মহিপুর থানা শহরের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রতিদিন রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দুর্ঘটনার শঙ্কায় আতংকিত থাকছেন।

দীর্ঘদিন ধরে এ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে নেই কোনো আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি এবং জনবল সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে ও ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে । কোথাও আবার ঢালাই ও পলেস্তারা খসে পড়ে রড বের হয়ে মরিচা ধরেছে। ভবনের বাহিরদিকের দেওয়ালে গাছের লতা পাতা ও পরগাছা জন্মেছে এযেনো দেখভালের কেউ নেই। তথাপি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দুইতলা বিশিষ্ট এ ভবনে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মোট ৮টি পদের মধ্যে ৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ, নাইট গার্ড ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ রয়েছে।বর্তমানে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও অফিস সহায়ক সহ মাত্র তিনজনে কোনোরকমে স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানে নেই কোন চিকিৎসা সেবার আধুনিক যন্ত্রপাতি । ফলে সেবাপ্রত্যাশী রোগীরা আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

মহিপুর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমাদের ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ, শিশু ও শিক্ষার্থীরা এ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসে। দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মিত না হলে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

ডালবুগঞ্জ থেকে আসা রোগী ইব্রাহীম দফাদার বলেন, বহু বছর আগে নির্মিত ভবনের দেয়াল ও ছাদে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ভেঙে পড়ছে ইটের গাথুনি ও ছাদের নির্মাণ সামগ্রী। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও বাধ্য হয়ে আমাদের এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

কুয়াকাটা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোজিনা বেগম বলেন,ভবনে প্রবেশ করলেই মনে হয় মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়বে। তবুও এভাবেই আমাদের ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নুরজাহান বেগম বলেন, জরাজীর্ণ ভবনের কারণে আমরাও আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছি। একাধিক কক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে এ ভবনের দোতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। বর্ষাকালে ছাদ থেকে পানি পড়ে এবং কোথাও কোথাও ভেঙে পড়ে নির্মাণ সামগ্রী। বিষয়টি একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আবিদা সুলতানা বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং কিছু কক্ষে ছাদ থেকে ঢালাই ও পলেস্তারা ভেঙে পড়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও আমাদের চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অপরদিকে আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি অভাব ও জনবল সংকটের কারণে রোগীদের প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী জানান, কিছুদিন পূর্বে ইঞ্জিনিয়ার এসে ভবনটি পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি প্রেরণ করেছি। এছাড়া আগামী অক্টোবরে নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হলে জনবল সংকট নিরসন হবে বলে আশা করছি।

স্থানীয়দের দাবি, একটি থানা শহর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার মতো একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এভাবে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চিকিৎসা সেবা চলছে যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
এছাড়া সরকারি এ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির অভাব ও পর্যাপ্ত জনবল সংকটের কারণে সেবা প্রত্যাশী রোগীরা আশেপাশের বিভিন্ন ডাইগোনষ্টিক ও ক্লিনিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছে । অনেকেই আবার উপজেলা ও জেলা শহরের সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অবিলম্বে নতুন ভবন নির্মাণ ও আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় তাগিদ জানান এলাকাবাসী।