রাজাপুরে খাল দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের ভাঙার নির্দেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১ Time View

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের কাঁচারিবাড়ী বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আব্দুল খালেক হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারসংলগ্ন খালের ভেতরে রড দিয়ে পিলার নির্মাণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্মাণ কাজের প্রস্তুতি চলছে। সেখানে কয়েকজন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁচারিবাড়ী বাজারে এর আগেও একাধিক ব্যক্তি খালের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তাদের দেখাদেখি আব্দুল খালেক হাওলাদারও খালের জমি দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। এতে করে খাল ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে কৃষি জমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে কৃষকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল খালেকের মেয়ে জামাই বিএনপি নেতা মাস্টার জাহিদুল ইসলাম এবং বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যোগসাজশে এই দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে বাজার কমিটির সেক্রেটারি মো. লিটন হাওলাদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আগে থেকেই অনেকেই খালের পাড় ঘেঁষে দোকান নির্মাণ করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় খালেকও কাজ করছেন। এতে খাল দখলের বিষয়টি আমি মনে করি না।”

এ বিষয়ে আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, “নির্মাণাধীন ভবনটি আমার নিজস্ব জমিতে হলেও কিছু অংশ খালের মধ্যে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসে দেখে গেছেন। প্রয়োজনে আমার জামাই কথা বলবেন, দরকার হলে এমপির সঙ্গেও কথা বলা হবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি এটি সরকারি খালের জমি প্রমাণিত হয় এবং ইউএনও ভেঙে ফেলতে বলেন, তাহলে তা ভেঙে ফেলা হবে।” তবে ইউএনও নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন কাজ বন্ধ করা হয়নি—এ প্রশ্নে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, “খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মিত পিলার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে খাল দখলমুক্ত করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত ও কৃষি সংকট তৈরি হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার এনামুল হক রাশেদীঃ বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরের আভিজাত রেস্টুরেন্টে এসইবিডি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ ও উদ্যোক্তা মিটআপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত:

রাজাপুরে খাল দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের ভাঙার নির্দেশ

Update Time : ০৬:১০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের কাঁচারিবাড়ী বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আব্দুল খালেক হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারসংলগ্ন খালের ভেতরে রড দিয়ে পিলার নির্মাণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্মাণ কাজের প্রস্তুতি চলছে। সেখানে কয়েকজন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁচারিবাড়ী বাজারে এর আগেও একাধিক ব্যক্তি খালের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তাদের দেখাদেখি আব্দুল খালেক হাওলাদারও খালের জমি দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। এতে করে খাল ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে কৃষি জমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে কৃষকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল খালেকের মেয়ে জামাই বিএনপি নেতা মাস্টার জাহিদুল ইসলাম এবং বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যোগসাজশে এই দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে বাজার কমিটির সেক্রেটারি মো. লিটন হাওলাদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আগে থেকেই অনেকেই খালের পাড় ঘেঁষে দোকান নির্মাণ করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় খালেকও কাজ করছেন। এতে খাল দখলের বিষয়টি আমি মনে করি না।”

এ বিষয়ে আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, “নির্মাণাধীন ভবনটি আমার নিজস্ব জমিতে হলেও কিছু অংশ খালের মধ্যে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসে দেখে গেছেন। প্রয়োজনে আমার জামাই কথা বলবেন, দরকার হলে এমপির সঙ্গেও কথা বলা হবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি এটি সরকারি খালের জমি প্রমাণিত হয় এবং ইউএনও ভেঙে ফেলতে বলেন, তাহলে তা ভেঙে ফেলা হবে।” তবে ইউএনও নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন কাজ বন্ধ করা হয়নি—এ প্রশ্নে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, “খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মিত পিলার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে খাল দখলমুক্ত করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত ও কৃষি সংকট তৈরি হতে পারে।