ইফাদ’র নামে লোন দেওয়ার প্রতারণা: বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, প্রাণনাশের হুমকি ভুয়া নথি ও প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬২ Time View
  • ইফাদ’র নামে লোন দেওয়ার প্রতারণা: বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, প্রাণনাশের হুমকি
    ভুয়া নথি ও প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
    বিশেষ প্রতিবেদন
    মোঃ রাসেল আহমেদ
    ক্রাইম রিপোর্টার (নেত্রকোনা প্রতিনিধি)
    ঢাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
    আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)-এর নাম ব্যবহার করে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রটি অনলাইনে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
    ভুক্তভোগী বেলায়েত হোসেন জানান, নিজেকে মোহাম্মদ আলী মাইনু (ছদ্মনাম) নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ইফাদ-এর কর্মকর্তা দাবি করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ‘ইফাদ লিংক লোন’ প্রোগ্রামের আওতায় ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনলাইনে আবেদন করানো হয়।
    পরবর্তীতে আবেদন সনদ, লোন প্রদানের সিদ্ধান্ত সনদ ও লোন অনুমোদন সনদ নামে একাধিক নথিপত্র পাঠানো হয়। এসব প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ‘ফেরতযোগ্য ফি’ ও ‘ফান্ড ট্রান্সফার ফি’ বাবদ বিভিন্ন ধাপে মোট ২ লাখ ২ হাজার ৫৩৯ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
    ভুয়া চিঠি ও প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার
    বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতারক চক্রটি বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোলিউশন বিভাগের (বিআরডি) পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠির অনুকরণে ভুয়া নথি পাঠায়। চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের অর্থ ছাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়।
    পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে জানানো হয়, ৩০ লাখ টাকা ঋণ পেতে হলে ইফাদ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ‘উপহার’ হিসেবে মোট ঋণের ১০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হবে।
    পরিচয় জালিয়াতি ও প্রাণনাশের হুমকি
    তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী মাইনু যে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছেন, সেগুলোর সঙ্গে তার প্রকৃত পরিচয়ের মিল পাওয়া যায়নি।
    ভুক্তভোগী বেলায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমি বনানীর একটি ঠিকানায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সত্যতা যাচাই করতে গেলে জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপর থেকেই আমাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা দম্ভ করে বলছে—‘আমাদের ক্ষমতা অনেক, পারলে যেখানে খুশি অভিযোগ কর’।”
    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত
    ঘটনাটি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে সিআইডি ও মালিবাগ সিপিসি হেড অফিস অভিযোগের নথিপত্র গ্রহণ করেছে। এছাড়া র‌্যাব-১, র‌্যাব-১০সহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
    সতর্কবার্তা
    বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে অনলাইনে ঋণ দেওয়ার কোনো বৈধ বিধান নেই। ঋণের বিনিময়ে আগাম অর্থ, উপহার বা কমিশন দাবি করা হলে তা প্রতারণারই লক্ষণ।
    বর্তমানে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী মাইনু ও তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত লাকি খাতুনের ভূমিকা তদন্তাধীন রয়েছে।
    এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার এনামুল হক রাশেদীঃ বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরের আভিজাত রেস্টুরেন্টে এসইবিডি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ ও উদ্যোক্তা মিটআপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত:

ইফাদ’র নামে লোন দেওয়ার প্রতারণা: বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, প্রাণনাশের হুমকি ভুয়া নথি ও প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

Update Time : ০৬:৫১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ইফাদ’র নামে লোন দেওয়ার প্রতারণা: বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, প্রাণনাশের হুমকি
    ভুয়া নথি ও প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
    বিশেষ প্রতিবেদন
    মোঃ রাসেল আহমেদ
    ক্রাইম রিপোর্টার (নেত্রকোনা প্রতিনিধি)
    ঢাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
    আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)-এর নাম ব্যবহার করে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রটি অনলাইনে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
    ভুক্তভোগী বেলায়েত হোসেন জানান, নিজেকে মোহাম্মদ আলী মাইনু (ছদ্মনাম) নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ইফাদ-এর কর্মকর্তা দাবি করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ‘ইফাদ লিংক লোন’ প্রোগ্রামের আওতায় ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনলাইনে আবেদন করানো হয়।
    পরবর্তীতে আবেদন সনদ, লোন প্রদানের সিদ্ধান্ত সনদ ও লোন অনুমোদন সনদ নামে একাধিক নথিপত্র পাঠানো হয়। এসব প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ‘ফেরতযোগ্য ফি’ ও ‘ফান্ড ট্রান্সফার ফি’ বাবদ বিভিন্ন ধাপে মোট ২ লাখ ২ হাজার ৫৩৯ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
    ভুয়া চিঠি ও প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার
    বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতারক চক্রটি বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোলিউশন বিভাগের (বিআরডি) পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠির অনুকরণে ভুয়া নথি পাঠায়। চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের অর্থ ছাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়।
    পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে জানানো হয়, ৩০ লাখ টাকা ঋণ পেতে হলে ইফাদ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ‘উপহার’ হিসেবে মোট ঋণের ১০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হবে।
    পরিচয় জালিয়াতি ও প্রাণনাশের হুমকি
    তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী মাইনু যে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছেন, সেগুলোর সঙ্গে তার প্রকৃত পরিচয়ের মিল পাওয়া যায়নি।
    ভুক্তভোগী বেলায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমি বনানীর একটি ঠিকানায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সত্যতা যাচাই করতে গেলে জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপর থেকেই আমাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা দম্ভ করে বলছে—‘আমাদের ক্ষমতা অনেক, পারলে যেখানে খুশি অভিযোগ কর’।”
    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত
    ঘটনাটি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে সিআইডি ও মালিবাগ সিপিসি হেড অফিস অভিযোগের নথিপত্র গ্রহণ করেছে। এছাড়া র‌্যাব-১, র‌্যাব-১০সহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
    সতর্কবার্তা
    বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে অনলাইনে ঋণ দেওয়ার কোনো বৈধ বিধান নেই। ঋণের বিনিময়ে আগাম অর্থ, উপহার বা কমিশন দাবি করা হলে তা প্রতারণারই লক্ষণ।
    বর্তমানে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী মাইনু ও তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত লাকি খাতুনের ভূমিকা তদন্তাধীন রয়েছে।
    এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।