নির্বাচনের আগে ‘কালব’র পরাজিত শক্তি আবারও সোচ্চার

নির্বাচনের আগে ‘কালব’র পরাজিত শক্তি আবারও সোচ্চার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৭:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৬৬ Time View

মাসুদ রানা : ১৯৭৯ সালের ১৪ জানুয়ারিতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ১১টি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের সমন্বয়ে তদারকি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠিত হয় দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অফ বাংলাদেশ লিমিটেড ‘কালব’। পরবর্তীতে অন্যান্য ধর্মের এবং গোষ্ঠীকেও এর সদস্যপদ দেওয়া হয়। কালব বিগত সাড়ে চার দশকে সদস্যদের দারিদ্র বিমোচনে রিসোর্ট, এগ্রো প্রজেক্টসহ নানা উৎপাদনমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রয়েছে এর বিশালাকার নিজস্ব কার্যালয়ও। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহলের থাবার কবলে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি হুমকী ও মিথ্যা প্রচারণার মুখে পড়েছে বারবার। আর এর মূল হোতা হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের সম্প্রতি পদত্যাগকারী সেক্রেটারি আরিফ মিয়া। এ চক্রের অন্যান্যরা হলেন ভাইস-চেয়ারম্যান ফাহমিদা সুলতানা, পরিচালক মোঃ আরিফ হাসান, পরিচালক মোঃ আঃ মন্নান লোটাস, পরিচালক নোয়েল চার্লস গমেজ, পরিচালক মোঃ হেলালউদ্দিন ও আশীষ কুমার দাশ।
এ চক্রের বিরুদ্ধে ‘কালব’ রিসোর্ট এন্ড কনভেনশন হলের উন্নয়নের অর্থ আত্মসাৎ, জমি ক্রয়ের নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, আবাসনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, রিসোর্টের রুমভাড়া নিয়ে বিল পরিশোধ না করা, ‘কালব’ রিসোর্ট এন্ড কনভেনশন হলকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার এবং এর বারের লাইসেন্স বাবদ কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই সাতজন সদস্য অত্যন্ত দূরভিসন্ধিমূলকভাবে চেয়ারম্যান মি. আগস্টিন পিউরীফিকেশনকে হেয় প্রতিপন্ন করতে ও ‘কালব’র মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক উন্নতির চাকাকে শ্লথ করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন। সূত্র আরো জানায় যে, মূলত প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহারে ব্যর্থ হয়ে তারা পদত্যাগ করেছেন।
এছাড়া ‘কালব’-এর এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিস কনসোর্টিয়াম প্রকল্পে বিনিয়োগের নামে অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের মেয়াদকালীন সময়ে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ না পাওয়ায় এবং উপরোক্ত দুর্নীতির বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক সমবায় সমিতি আইন-২০০১ (সংশোধিত-২০০২ ও ২০১৩)-এর ৪৮ ধারার পরিদর্শন প্রতিবেদনের আলোকে একই আইনের ৪৯ ধারায় তদন্ত হলে সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রকাশ হয়ে যেতে পারে এমন আশংকা থেকে এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটির প্রতিবেদনে বিভিন্ন অনিয়ম উঠে আসা, ‘কালব’ কর্মকর্তা কর্তৃক সম্পাদিত তদন্ত কার্যক্রম উদঘাটিত, বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থলোপাটের বিষয়গুলো অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই মূলত উপরে উল্লেখিত ব্যবস্থাপনা কমিটির ৭ (সাত) জন সদস্য পদত্যাগ করেন বলে সংশ্লিষ্টরা এ প্রতিবেদককে জানান।
অভিযোগ রয়েছে, পদত্যাগকারী সেক্রেটারি আরিফ মিয়া গং ও সহচররা নিজেদের মধ্যে যোগসাজসে কালবের সফট্ওয়ার সংক্রান্ত চুক্তিতে চরম অনিয়ম, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম, কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি, বিউটিফিকেশনের কাজ, পার্কিং, দেওয়াল ও ওয়াকওয়ে তৈরী, ওয়াশিংপ্ল্যান্ট, ইনডোর গেইমজোন, বেড, ম্যাট্রেস, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, ওয়াশিং মেশিনসহ নানা ক্ষেত্রের ক্রয়েও  অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। এমনকি আরিফ মিয়া ‘কালব’ রিসোর্টে একটি সাজানো গোছানো রুম দিনের পর দিন নিজের নামে বরাদ্দ নিয়ে রাত্রিযাপন করতেন। যেখানে অবৈধ কর্মকাণ্ডও সংগঠিত হতো।

এই অসাধু  চক্র নিজেদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে গিয়ে ‘কালব’র স্বনামধন্য চেয়ারম্যান মি. আগষ্টিন পিউরিফিকেশনের চরিত্রে কালিমা লেপনের চেষ্টা করেছেন বারবার এবং এখনো সেই অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। নিউজে জনৈক মজিবুর রহমানের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে জমি ক্রয়ের করেছেন বলে আগষ্টিন পিউরিফিকেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ ঘটনার সরেজমিন তদন্ত করে জানা যায়ি ঐ জমি ক্রয়ের সাথে আগষ্টিন পিউরিফিকেশনের কোনো সম্পর্কই ছিলো না। পদত্যাগকারী সেক্রেটারী আরিফ মিয়া উল্লেখিত মজিবুর রহমানের সাথে জমি ক্রয়ের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। সেখানে কোনো অনিয়ম বা  দুর্নীতি হয়ে থাকলে তার আরিফ মিয়ার উপরই বর্তাবে। কোনো অবস্থাতেই তা আগষ্টিন পিউরিফিকেশনের উপর বর্তায় না।

একজন নিষ্ঠাবান কর্মবীর, ন্যায় পরায়ন ব্যক্তি আগষ্টিন পিউরিফিকেশনের সম্মান ক্ষুণ্ণ করা ও তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যেই তারা তার বিরুদ্ধে এরূপ মিথ্যা ও বানোয়াট নিউজ প্রচার করার চেষ্টা করছে।

আগষ্টিন পিউরিফিকেশন মিথ্যা ও বানোয়াট নিউজের প্রতি কর্ণপাত না করে আসন্ন নির্বাচনে সৎ ও ন্যায়পরায়ন ব্যক্তিদের নির্বাচিত করে ‘কালব’র উন্নয়ন ও সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে সদস্যদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।

আ/স/০৫/০২/২০২৫/আকাশ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার এনামুল হক রাশেদীঃ বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ঢাকার মিরপুরের আভিজাত রেস্টুরেন্টে এসইবিডি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ ও উদ্যোক্তা মিটআপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত:

নির্বাচনের আগে ‘কালব’র পরাজিত শক্তি আবারও সোচ্চার

নির্বাচনের আগে ‘কালব’র পরাজিত শক্তি আবারও সোচ্চার

Update Time : ১০:৫৭:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

মাসুদ রানা : ১৯৭৯ সালের ১৪ জানুয়ারিতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ১১টি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের সমন্বয়ে তদারকি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠিত হয় দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অফ বাংলাদেশ লিমিটেড ‘কালব’। পরবর্তীতে অন্যান্য ধর্মের এবং গোষ্ঠীকেও এর সদস্যপদ দেওয়া হয়। কালব বিগত সাড়ে চার দশকে সদস্যদের দারিদ্র বিমোচনে রিসোর্ট, এগ্রো প্রজেক্টসহ নানা উৎপাদনমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রয়েছে এর বিশালাকার নিজস্ব কার্যালয়ও। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহলের থাবার কবলে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি হুমকী ও মিথ্যা প্রচারণার মুখে পড়েছে বারবার। আর এর মূল হোতা হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের সম্প্রতি পদত্যাগকারী সেক্রেটারি আরিফ মিয়া। এ চক্রের অন্যান্যরা হলেন ভাইস-চেয়ারম্যান ফাহমিদা সুলতানা, পরিচালক মোঃ আরিফ হাসান, পরিচালক মোঃ আঃ মন্নান লোটাস, পরিচালক নোয়েল চার্লস গমেজ, পরিচালক মোঃ হেলালউদ্দিন ও আশীষ কুমার দাশ।
এ চক্রের বিরুদ্ধে ‘কালব’ রিসোর্ট এন্ড কনভেনশন হলের উন্নয়নের অর্থ আত্মসাৎ, জমি ক্রয়ের নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, আবাসনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, রিসোর্টের রুমভাড়া নিয়ে বিল পরিশোধ না করা, ‘কালব’ রিসোর্ট এন্ড কনভেনশন হলকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার এবং এর বারের লাইসেন্স বাবদ কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই সাতজন সদস্য অত্যন্ত দূরভিসন্ধিমূলকভাবে চেয়ারম্যান মি. আগস্টিন পিউরীফিকেশনকে হেয় প্রতিপন্ন করতে ও ‘কালব’র মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক উন্নতির চাকাকে শ্লথ করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন। সূত্র আরো জানায় যে, মূলত প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহারে ব্যর্থ হয়ে তারা পদত্যাগ করেছেন।
এছাড়া ‘কালব’-এর এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিস কনসোর্টিয়াম প্রকল্পে বিনিয়োগের নামে অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের মেয়াদকালীন সময়ে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ না পাওয়ায় এবং উপরোক্ত দুর্নীতির বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক সমবায় সমিতি আইন-২০০১ (সংশোধিত-২০০২ ও ২০১৩)-এর ৪৮ ধারার পরিদর্শন প্রতিবেদনের আলোকে একই আইনের ৪৯ ধারায় তদন্ত হলে সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রকাশ হয়ে যেতে পারে এমন আশংকা থেকে এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটির প্রতিবেদনে বিভিন্ন অনিয়ম উঠে আসা, ‘কালব’ কর্মকর্তা কর্তৃক সম্পাদিত তদন্ত কার্যক্রম উদঘাটিত, বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থলোপাটের বিষয়গুলো অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই মূলত উপরে উল্লেখিত ব্যবস্থাপনা কমিটির ৭ (সাত) জন সদস্য পদত্যাগ করেন বলে সংশ্লিষ্টরা এ প্রতিবেদককে জানান।
অভিযোগ রয়েছে, পদত্যাগকারী সেক্রেটারি আরিফ মিয়া গং ও সহচররা নিজেদের মধ্যে যোগসাজসে কালবের সফট্ওয়ার সংক্রান্ত চুক্তিতে চরম অনিয়ম, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম, কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি, বিউটিফিকেশনের কাজ, পার্কিং, দেওয়াল ও ওয়াকওয়ে তৈরী, ওয়াশিংপ্ল্যান্ট, ইনডোর গেইমজোন, বেড, ম্যাট্রেস, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, ওয়াশিং মেশিনসহ নানা ক্ষেত্রের ক্রয়েও  অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। এমনকি আরিফ মিয়া ‘কালব’ রিসোর্টে একটি সাজানো গোছানো রুম দিনের পর দিন নিজের নামে বরাদ্দ নিয়ে রাত্রিযাপন করতেন। যেখানে অবৈধ কর্মকাণ্ডও সংগঠিত হতো।

এই অসাধু  চক্র নিজেদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে গিয়ে ‘কালব’র স্বনামধন্য চেয়ারম্যান মি. আগষ্টিন পিউরিফিকেশনের চরিত্রে কালিমা লেপনের চেষ্টা করেছেন বারবার এবং এখনো সেই অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। নিউজে জনৈক মজিবুর রহমানের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে জমি ক্রয়ের করেছেন বলে আগষ্টিন পিউরিফিকেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ ঘটনার সরেজমিন তদন্ত করে জানা যায়ি ঐ জমি ক্রয়ের সাথে আগষ্টিন পিউরিফিকেশনের কোনো সম্পর্কই ছিলো না। পদত্যাগকারী সেক্রেটারী আরিফ মিয়া উল্লেখিত মজিবুর রহমানের সাথে জমি ক্রয়ের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। সেখানে কোনো অনিয়ম বা  দুর্নীতি হয়ে থাকলে তার আরিফ মিয়ার উপরই বর্তাবে। কোনো অবস্থাতেই তা আগষ্টিন পিউরিফিকেশনের উপর বর্তায় না।

একজন নিষ্ঠাবান কর্মবীর, ন্যায় পরায়ন ব্যক্তি আগষ্টিন পিউরিফিকেশনের সম্মান ক্ষুণ্ণ করা ও তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যেই তারা তার বিরুদ্ধে এরূপ মিথ্যা ও বানোয়াট নিউজ প্রচার করার চেষ্টা করছে।

আগষ্টিন পিউরিফিকেশন মিথ্যা ও বানোয়াট নিউজের প্রতি কর্ণপাত না করে আসন্ন নির্বাচনে সৎ ও ন্যায়পরায়ন ব্যক্তিদের নির্বাচিত করে ‘কালব’র উন্নয়ন ও সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে সদস্যদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।

আ/স/০৫/০২/২০২৫/আকাশ